মার্ভেল–এ ফিরছে ‘আয়রনম্যান’, তবে এবার ভিলেন হিসেবে; ‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ নিয়ে যা যা জানা গেল

আগামী ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।

iron
ছবি: সংগৃহীত

৩৭টি সিনেমার পর মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্স (এমসিইউ) যেন খানিকটা ক্লান্ত। দর্শকদের মধ্যে ‘সুপারহিরো ফ্যাটিগ’ বা সুপারহিরো সিনেমার প্রতি একঘেয়েমি কাটাতে তাদের দরকার ছিল নতুন কোনো দাওয়াই।

গত কয়েক বছরে মার্ভেলের ছবিগুলো নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে, সাফল্যও এসেছে বিক্ষিপ্তভাবে। এর মধ্যে আবার এক গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতার সঙ্গে বিচ্ছেদের ঘটনায় বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটিকে।

সমস্যার সমাধানে মার্ভেল তাদের বিশাল ভান্ডার ঘেঁটে শেষ পর্যন্ত ভিলেন ‘ডক্টর ভিক্টর ভন ডুম’-কে বেছে নিয়েছে ভবিষ্যতের বাজি হিসেবে।

‘অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে’ সিনেমায় এই ভিলেনের পূর্ণাঙ্গ অভিষেক হবে। কট্টর ভক্তদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকেরা আবারও মার্ভেলের জাদুতে হলমুখী হবেন কি না, তা এই ছবির ওপরই নির্ভর করছে।

কিন্তু বিশ্বজুড়ে ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করা এই বিশাল সিরিজটিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলার মতো তারকাদ্যুতি আছে কার?

উত্তরটা—রবার্ট ডাউনি জুনিয়র।

২০২৪ সালে স্যান ডিয়েগোর কমিক কনে তাকে যখন মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, তখন মার্ভেল প্রধানেরা বলেছিলেন, ‘এই চরিত্রের জন্য একমাত্র তিনিই যোগ্য।’ তার নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হলজুড়ে দর্শকদের উল্লাস ছিল কান ফাটানো।

আগে ১০টি সিনেমায় আয়রন ম্যান বা টনি স্টার্ক চরিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। শুধু তার অভিনীত আয়রন ম্যান ট্রিলজিই বিশ্বজুড়ে আয় করেছে ২.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তাই দর্শক টানতে তার ওপর ভরসা রাখাই স্বাভাবিক।

তবে সমালোচকদের অনেকে একে সৃজনশীলতার অভাব হিসেবেই দেখছেন। তাদের মতে, একই অভিনেতাকে নতুন আরেকটি চরিত্রে ফিরিয়ে আনা প্রমাণ করে যে মার্ভেল কর্তৃপক্ষের হাতে নতুন আইডিয়ার অভাব দেখা দিয়েছে।

‘ডুমসডে’ সিনেমায় রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের সঙ্গে কে কে থাকছেন, সেই তালিকা করা বেশ কঠিন। বরং কে থাকছেন না, সেই তালিকা করাই হয়তো সহজ। সিনেমার কাস্টিং লিস্ট এতটাই লম্বা যে হলিউডের প্রথম সারির প্রায় সবাই যেন এতে আছেন।

ক্রিস ইভান্স, ক্রিস হেমসওয়ার্থ, পেড্রো পাসকাল, টম হল্যান্ড থেকে শুরু করে ফ্লোরেন্স পিউ, হেইলি অ্যাটওয়েল, লেটিশিয়া রাইট, ভেনেসা কার্বি—তালিকা শেষ হওয়ার নয়।

দম নিয়ে আবার শুরু করা যাক—স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট, স্যার ইয়ান ম্যাককেলেন, বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ, চ্যানিং টেটাম….

আগামী ১৮ ডিসেম্বর শুক্রবার সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। এর ঠিক পরের বছর আসবে এর সিক্যুয়েল। এরই মধ্যে ‘ডুমসডে’-এর টিজার প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা আর জল্পনা তুঙ্গে।

তবে এই সিনেমা নিয়ে এখন পর্যন্ত কী কী জানা গেছে?

সতর্কতা: যাঁরা মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সম্পর্কে জানেন না, তাঁদের জন্য নিচের অংশে স্পয়লার থাকতে পারে।

‘ডুমসডে’-এর টিজারগুলো নিয়ে এতটাই উন্মাদনা তৈরি হয়েছে যে এর শেষের ‘উইল রিটার্ন’ লেখাটি এখন মিম-এ পরিণত হয়েছে।

প্রথমে নিশ্চিত করা হলো, ক্রিস ইভান্সের স্টিভ রজার্স ফিরছেন।

২০১১ সালে ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: দ্য ফার্স্ট অ্যাভেঞ্জার’-এ প্রথম ঢাল হাতে তুলে নিয়েছিলেন ক্রিস ইভান্স। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন এমসিইউর সাফল্যের অন্যতম কাণ্ডারি।

তবে ২০১৯ সালের ‘অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম’-এর পর থেকে বিশ্ব বাঁচানোর চেয়ে অবসরেই বেশি সময় কাটিয়েছেন ক্যাপ। ‘এন্ডগেম’-এর শেষে আমরা দেখেছি, তিনি অতীতে ফিরে গিয়ে তার প্রিয় পেগি কার্টারের সঙ্গে নাচের ছন্দে জীবন কাটাচ্ছেন। পরে এক দৃশ্যে বয়োবৃদ্ধ স্টিভ তার আইকনিক ঢালটি তুলে দেন স্যাম উইলসনের হাতে।

কিন্তু ‘ডুমসডে’-এর নতুন টিজারে স্টিভকে আবারও তরুণ ও সুঠাম দেখায়। তাহলে কি অতীতে থাকা তরুণ স্টিভ আবারও বর্তমানের অ্যাভেঞ্জারদের সঙ্গে যোগ দিতে আসছেন?

টিজারের এক ঝলকে তাকে একটি শিশুকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়। ধারণা করা হচ্ছে, এটি তার নিজেরই সন্তান।

সন্তানের প্রসঙ্গ যখন এলই, তখন ডক্টর ডুমের কথা না বললেই নয়। ২০২৫ সালের ‘ফ্যান্টাসিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’-এর শেষে এক রহস্যময় দৃশ্যে রিড রিচার্ডস (মিস্টার ফ্যান্টাসিক) ও সু স্টর্মের ছেলে ফ্র্যাঙ্কলিনের প্রতি ডক্টর ডুমকে বেশ আগ্রহী দেখা গেছে।

ডুমের পরিকল্পনা কি তবে সুপারহিরোদের এই সন্তানদের ঘিরে? স্টিভের ‘ক্যারিয়ার ব্রেক’ শেষে তিনি যখন ফিরবেন, তখন বেবিসিটার হিসেবে যেন ডক্টর ডুমকে ডাকা না হয়—সেটাই মঙ্গল!

এবার থরের পালা। ‘ডুমসডে’-এর দ্বিতীয় টিজারে দেখা যায়, নিজের পালিত সন্তানকে রক্ষা করার জন্য চোখের জলে বাবার কাছে প্রার্থনা করছেন থর।

টিজারে দেখা যায়, মানসিক প্রশান্তির খোঁজে হাঁটছেন আসগার্ডের দেবতা থর। ২০২২ সালের ‘লাভ অ্যান্ড থান্ডার’ সিনেমার পর থেকেই তার সঙ্গে আছে ‘লাভ’। এখন সম্ভবত লাভ-এর ওপর কোনো বিপদ আসছে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। তাই প্রার্থনায় ‘অল-ফাদার’দের কাছে আবারও লড়াই করার শক্তি ভিক্ষা চাইছেন।

অতীতের আঘাতগুলো থরকে ক্ষতবিক্ষত করেছে। তার প্রেমিকা জেন ফস্টার চলে গেছেন ভালহালায়। আর ভাই লোকি কখনো বন্ধু, কখনো শত্রু হয়ে বারবার ধোঁকা দিয়েছে। বেচারা থর এখন আক্ষরিক অর্থেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছেন, অথচ ডুমের খেলা তো কেবল শুরু!

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ২০০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এক্স-মেন সিরিজের ১৩টি ছবি কখনো সফল হয়েছে, কখনো বা মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। তবে সব মিলিয়ে তারকাবহুল এই সিরিজ বক্স অফিসে কয়েক বিলিয়ন ডলার আয় করেছে।

২০১৭ সালে টুয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্সকে কিনে নেয় ডিজনি। এই চুক্তির ফলে এক্স-মেন চরিত্রগুলোর স্বত্ব চলে আসে ডিজনির হাতে, যা তাদের পুরোনো মার্ভেল সংগ্রহের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়।

মার্ভেল তাদের মিউট্যান্টদের পর্দায় আনার জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিল। তবে নতুন টিজার নিশ্চিত করেছে যে এক্স-মেনরা এবার পুরোদমে এমসিইউতে প্রবেশ করছে।

এক্স-ম্যানশনটা বোধ হয় একটু পরিষ্কার করা দরকার, তাই না? সাইক্লপসের চোখ থেকে বের হওয়া লেজার রশ্মি অবশ্য মুহূর্তেই সব মাকড়সার জাল সাফ করে দিতে পারে।

স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট ও স্যার ইয়ান ম্যাককেলেন আবারও ফিরছেন প্রফেসর এক্স ও ম্যাগনিটো চরিত্রে। তাদের সম্পর্কটা বরাবরই জটিল। কখনো বন্ধুত্বের মৃদু হাসি, কখনো বা বিধ্বংসী সংঘাত। টিজারে তাদের মৃত্যু ও রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার নিয়ে দার্শনিক আলোচনা করতে দেখা যায়। তবে ম্যাগনিটোর অতীত বলে, শেষ পর্যন্ত তার ধ্বংসাত্মক চিন্তাই জয়ী হয়। ডুম যদি হাত বাড়ায়, ম্যাগনিটো কি তার পক্ষ নেবেন?

অ্যালান কামিং ফিরছেন নাইটক্রলার হয়ে, আর রেবেকা রোমিন আসছেন মিস্টিক চরিত্রে। হিউ জ্যাকম্যান তো আগেই প্রমাণ করেছেন, উলভারিন হিসেবে তার ধার এখনো কমেনি। ফ্যানদের পছন্দের সব চরিত্রকে এক করে ‘ডুমসডে’ যেন এক্স-মেনদের নিয়ে এমসিইউর বড় পরিকল্পনারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অনলাইনে ‘ডুমসডে’-এর ভুয়া টিজার আর লিক বা তথ্য ফাঁসের গুজবে সয়লাব। ভক্তদের ধারণা, চতুর্থ কোনো ‘উইল রিটার্ন’ টিজার আসছে, যা হয়তো ব্ল্যাক প্যান্থারের দেশ ওয়াকান্ডাকে কেন্দ্র করে হবে।

সামনেই সুপার বোল। ৮ ফেব্রুয়ারি রোববার এই মেগা ইভেন্টের বিজ্ঞাপন বিরতিতে কি নতুন কোনো ধামাকা আসবে? স্পাইডারম্যানের নতুন ছবি ‘ব্র্যান্ড নিউ ডে’-এর ট্রেলার আসার সম্ভাবনাই হয়তো বেশি।

টম হল্যান্ড আবারও পিটার পার্কার হয়ে ফিরছেন আগামী ৩১ জুলাই। আর ডিসেম্বরে পর্দা কাঁপাতে আসবে ‘ডুমসডে’। এরপর ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে মুক্তি পাবে এর সিক্যুয়েল ‘সিক্রেট ওয়ার্স’।

এমসিইউর সেই স্বর্ণালি সময় হয়তো এখন নেই, তবে ‘ফ্যান্টাসিক ফোর: ফার্স্ট স্টেপস’-এর ৫০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় তাদের আবারও পায়ের নিচে মাটি দিয়েছে। আর এখন স্পাইডারম্যান এবং ভিলেনরূপে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রকে নিয়ে মার্ভেল যদি বাজি ধরে, তবে বক্স অফিসের শীর্ষে ফেরা তাদের জন্য হয়তো সময়ের ব্যাপার মাত্র।