‘নিজেকে মুক্ত লাগছে’: সোশ্যাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞার এক মাস পর অস্ট্রেলিয়ার শিশুদের অনুভূতি

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়।

social_media
ছবি: রয়টার্স

বহু বছর পর এই প্রথম অ্যামি নিজেকে যেন সত্যিই মুক্ত অনুভব করছে। অস্ট্রেলিয়ায় কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ার এক মাস পর সে বলছে, সে এখন ‘ফোন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন’ এবং তার দৈনন্দিন রুটিনে স্পষ্ট পরিবর্তন এসেছে।

১৪ বছর বয়সী এই কিশোরী জানায়, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর প্রথম কয়েক দিন সে তীব্রভাবে অনলাইন আসক্তির টান অনুভব করেছিল।

নিষেধাজ্ঞা শুরুর পর প্রথম সপ্তাহের অভিজ্ঞতা লিখে রাখা একটি ডায়রিতে দ্বিতীয় দিনে সে লিখেছিল, ‘আমি জানতাম যে আমি স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করতে পারব না—তবুও অভ্যাসবশত সকালে ঘুম থেকে উঠে অ্যাপটি খুলতে হাত বাড়িয়েছিলাম।’

নিষেধাজ্ঞার চতুর্থ দিনে—যেদিন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকসহ ১০টি প্ল্যাটফর্ম ১৬ বছর বা তার কম বয়সী হাজার হাজার অস্ট্রেলীয় শিশুর জন্য বন্ধ হয়ে যায়—সেদিনই সে স্ন্যাপচ্যাটের এই প্রবল আকর্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে।

অ্যামি লেখে, ‘বন্ধুদের স্ন্যাপ পাঠাতে পারছি না বলে খারাপ লাগলেও, আমি অন্য প্ল্যাটফর্মে তাদের মেসেজ পাঠাতে পারছি। সত্যি বলতে, এখন আমার বেশ মুক্ত লাগছে, কারণ আমাকে আর স্ট্রিকস বজায় রাখার চিন্তা করতে হচ্ছে না।’

স্ট্রিকস হলো স্ন্যাপচ্যাটের একটি ফিচার, যা অনেকের মতে অত্যন্ত আসক্তিকর। এতে প্রতিদিন একে অপরকে একটি করে ‘স্ন্যাপ’ [ছবি বা ভিডিও] পাঠাতে হয়, যাতে সেই ‘স্ট্রিক’ টিকে থাকে। এভাবে দিন, মাস এমনকি বছরের পর বছর ধরে স্ট্রিক চলতে পারে।

ষষ্ঠ দিনে এসে স্ন্যাপচ্যাটের প্রতি মোহ অ্যামির কাছে দ্রুতই ফিকে হয়ে আসতে থাকে। ১২ বছর বয়সে সে প্রথম অ্যাপটি ডাউনলোড করেছিল এবং দিনে কয়েকবার করে তা ব্যবহার করত। সে লেখে, ‘আগে স্কুল ছুটির পর প্রায়ই আমি স্ন্যাপচ্যাটে বন্ধুদের কল করতাম। এখন সেটা না করতে পেরে আমি দৌড়াতে বের হয়েছি।’

এক মাস পর তার জীবনযাপন ও অভ্যাসে পরিবর্তন এখন স্পষ্টভাবে চোখে পড়ছে।

সিডনির এই কিশোরী বিবিসিকে বলে, ‘আগে স্ন্যাপচ্যাট খোলা আমার রুটিনের অংশ ছিল। স্ন্যাপচ্যাট খুললেই আমি প্রায়ই ইনস্টাগ্রাম, তারপর টিকটকে চলে যেতাম। অ্যালগরিদমের টানে পড়ে সময়ের হিসাবই থাকত না… এখন আমি ফোন খুব কমই ধরি, আর মূলত কোনো প্রয়োজন হলে তবেই ব্যবহার করি।’

‘এটা আসলে কিছুই বদলায়নি’

অ্যামির এই অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার আগে তিনি শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতি আসক্তি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

দেশটির সরকার জানিয়েছে, অনলাইন বুলিং এবং শিশুদের অনলাইন অপরাধী ও ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

১০ ডিসেম্বর থেকে যদি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ১৬ বছরের কম বয়সীদের তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে ‘যৌক্তিক পদক্ষেপ’ না নেয়, তবে তাদের সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলার [প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার] জরিমানার মুখে পড়তে হবে—এমন আইন জারি করা হয়।

তবে এই নিষেধাজ্ঞা খেলাধুলাপ্রেমী, বইপড়া ও বাদ্যযন্ত্র চর্চায় আগ্রহী এক নতুন প্রজন্ম গড়ে তুলবে, অ্যালবানিজের এমনটা আশা থাকলেও তা সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হয়নি।

১৩ বছর বয়সী আহিল আগের চেয়ে বেশি বই পড়ছে না, খেলাধুলাও করছে না কিংবা কোনো বাদ্যযন্ত্র শেখাও শুরু করেনি।

বরং সে প্রতিদিন গড়ে আড়াই ঘণ্টা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে সময় কাটাচ্ছে, যা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগের সময়ের মতোই।

সে এখনও ইউটিউব ও স্ন্যাপচ্যাটে তার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে এবং দুটো ক্ষেত্রেই ভুয়া জন্মতারিখ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তার বেশিরভাগ সময় কাটে গেমিং প্ল্যাটফর্ম রবলক্স ও ডিসকর্ডে, যেগুলোর কোনোটিই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নয়।

আহিল বলে, ‘এতে আসলে কিছুই বদলায়নি,’ কারণ তার বেশিরভাগ বন্ধুরই এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে।

তবে তার মা মাউ একটি পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘সে এখন বেশি খিটখিটে হয়ে গেছে,’ এবং আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় ভিডিও গেম খেলছে।

মাউ বলেন, ‘যখন সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল, তখন সে অনেক বেশি সামাজিক ছিল… আমাদের সঙ্গে বেশি কথা বলত।’ তবে তিনি এটাও যোগ করেন, এই খিটখিটে মেজাজ হয়তো কেবল ‘কৈশোরকালীন পরিবর্তনের’ ফলও হতে পারে।

ভোক্তা মনোবিজ্ঞানী ক্রিস্টিনা অ্যান্থনি বলেন, এ ধরনের মেজাজের পরিবর্তন আবেগগত ভারসাম্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার স্বল্পমেয়াদি প্রভাব হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘অনেক কিশোর-কিশোরীর কাছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়—এটি একঘেয়েমি, মানসিক চাপ ও সামাজিক উদ্বেগ সামাল দেওয়ার উপায়, পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির একটি মাধ্যম। যখন এই সুযোগ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়, তখন শুরুতে কিছু কিশোর-কিশোরী খিটখিটে ভাব, অস্থিরতা বা সামাজিক বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি পেতে পারে… এটি প্ল্যাটফর্মটি অপরিহার্য হওয়ার কারণে নয়, বরং একটি পরিচিত কোপিং ম্যাকানিজম [মোকাবিলা করার মাধ্যম] সরিয়ে নেওয়ার ফল।’

তিনি আরু জানান, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তরুণরা নতুন ‘কোপিং ম্যাকানিজম’ রপ্ত করতে পারে—যেমন, বিশ্বস্ত কোনো প্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে কথা বলা।

স্ন্যাপচ্যাট বন্ধ, হোয়াটসঅ্যাপ চালু

সিডনির আরেকটি পরিবারে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব খুব একটা পড়েনি। ১৫ বছর বয়সী লুলু বলে, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার আমার আগের মতোই আছে, কারণ আমি ১৬ বছরের বেশি বয়স দেখিয়ে টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম—দুটো প্ল্যাটফর্মেই নতুন অ্যাকাউন্ট খুলেছি।’

তবে নতুন এই আইন তাকে অন্যভাবে প্রভাবিতও করেছে। লুলু জানায়, ‘আমি এখন একটু বেশি বই পড়ছি, কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় আগের মতো অতটা সময় কাটাতে চাই না।’

তবে আগের তুলনায় সে বেশি বাইরে বের হচ্ছে না কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করার পরিকল্পনাও করছে না।

বরং লুলু, অ্যামি ও আহিল—তিনজনই এখন হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জার ব্যবহার করতে শুরু করেছে [যেগুলোর কোনোটিই নিষিদ্ধ নয়]। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ হারানো বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার এটিই এখন তাদের প্রধান উপায়।

অ্যান্থনি বলেন, এটিই সোশ্যাল মিডিয়াকে আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় করে তোলার মূল কারণ—এটি সামাজিক।

তিনি বলেন, ‘আনন্দ কেবল একা একা স্ক্রল করার মধ্যে নেই; বরং সবার সঙ্গে মিলে কোনো কিছু দেখার মধ্যেই এর আসল আনন্দ। বন্ধুদের সঙ্গে একই পোস্ট দেখা, তাতে প্রতিক্রিয়া জানানো এবং একই আলোচনায় অংশ নেওয়া মানসিক প্রশান্তি দেয়।’

এই মানসিক আনন্দ কমে গেলে প্ল্যাটফর্মটি ‘অস্বাভাবিকভাবে অসামাজিক’ মনে হতে শুরু করে।

তিনি বলেন, ‘এ কারণেই কিছু তরুণ এমনকি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও সামাজিক যোগাযগমাধ্যম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়… সমবয়সীদের উপস্থিতি না থাকলে সামাজিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া এবং মেজাজ ভালো হওয়ার সুযোগ—দুটোই দ্রুত কমে যায়।’

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কয়েক দিন আগে হাজার হাজার অস্ট্রেলীয় ঠিক এই শূন্যতা পূরণের জন্যই বিকল্প অ্যাপ খুঁজতে শুরু করে। এর ফলে লেমন৮, ইয়োপ ও কাভারস্টার—নাম খুব একটা পরিচিত নয় এমন তিনটি অ্যাপের ডাউনলোড হঠাৎ করেই ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

বিকল্প ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের প্রতি এই ঝোঁককে অ্যান্থনি ‘ক্ষতিপূরণমূলক আচরণ’-এর অংশ বলে মনে করেন।

তিনি বলেন, ‘যখন একটি পরিচিত ও মানসিকভাবে তৃপ্তিদায়ক কাজ সীমিত করা হয়, তখন মানুষ সেই তৃপ্তি খোঁজা বন্ধ করে দেয় না… বরং তা পাওয়ার বিকল্প পথ খুঁজে নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে এর মানে হলো এমন সব প্ল্যাটফর্ম বা কার্যক্রম দিয়ে সেই অভাব পূরণ করা, যেগুলো একই ধরনের মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেয়—যেমন সামাজিক যোগাযোগ, আত্মপরিচয় প্রকাশ, বিনোদন কিংবা কল্পনাপ্রবণতা।’

মোবাইল অ্যাপের প্রবণতা পর্যবেক্ষণকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যাপটোপিয়া-এর অ্যাডাম ব্ল্যাকার জানান, ডাউনলোডের প্রাথমিক সেই উল্লম্ফন এখন কমে এলেও দৈনিক ডাউনলোডের হার এখনও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।

তার মতে, ডাউনলোড কমে আসা থেকে বোঝা যায়, ‘অনেক শিশু হয়তো নতুন নিয়ম মেনে নিচ্ছে এবং মোবাইলে সময় কাটানোর বদলে অন্য কাজে সময় দিচ্ছে।’

নিষেধাজ্ঞার আগে যারা টিকটকের নির্মাতাদের তৈরি ‘লেমন৮’ ডাউনলোড করেছিল, অ্যামি ছিল তাদের একজন। সে বলে, ‘এটি মূলত সামাজিক চাপ আর পিছিয়ে পড়ার ভয়—ফিয়ার অফ মিংসিং আউট [সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা]—থেকে করা হয়েছিল, কারণ আমার আশপাশের অনেকেই একই কাজ করছিল।’

তবে অ্যামি অ্যাপটি কখনোই ব্যবহার করেনি। তার ভাষায়, ‘তারপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আমার আগ্রহ অনেকটাই কমে গেছে, আর কোনো বিকল্প প্ল্যাটফর্ম ডাউনলোড বা ব্যবহার করার প্রয়োজনও বোধ করছি না।’

অস্ট্রেলীয়দের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন ডাউনলোডের সংখ্যাও নিষেধাজ্ঞার আগে বেড়েছিল, তবে পরে তা আবার স্বাভাবিক পর্যায়ে নেমে আসে।

ভিপিএন প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের অবস্থান আড়াল করে অন্য কোনো দেশে আছেন বলে দেখাতে পারেন, যা মূলত স্থানীয় আইন এড়িয়ে চলতে সাহায্য করে।

তবে ব্ল্যাকার বলেন, কিশোর-কিশোরীদের কাছে এর আকর্ষণ সীমিত, কারণ অনেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এখন ভিপিএন শনাক্ত করতে সক্ষম।

তিনি বলেন, ‘কিশোর-কিশোরীরা মূলত নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য ভিপিএন ব্যবহার করতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের পরিচিত বন্ধু-বান্ধব, সেটিংস, ছবি—সবকিছুই নতুন করে শুরু করতে হয়।’

গেমিংয়ে যুক্ত হওয়া ‘অনেক বেশি কঠিন’

নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগের কয়েক মাসে গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোকে এই আইনের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। সমালোচকদের আশঙ্কা ছিল, অনেক কিশোর-কিশোরী এসব গেমিং অ্যাপও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মতোই ব্যবহার করে, ফলে সেখানেও একই ধরনের সম্ভাব্য ক্ষতির ঝুঁকি থেকে যায়।

কিশোর-কিশোরীরা সামাজিক যোগাযোগের জন্য রবলক্স, ডিসকর্ড কিংবা মাইনক্রাফটের মতো প্ল্যাটফর্মের দিকে ঝুঁকছে—এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। তবে টুইচ-এর মতো গেমিং লাইভ স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ মার্ক জনসন মনে করেন, এমনটি ঘটার বাস্তব সম্ভাবনা রয়েছে। টুইচ নিজেও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব সিডনির ডিজিটাল কালচার বিষয়ের লেকচারার জনসন বলেন, ‘তবে বিষয়টি নির্ভর করে একজন তরুণের কাছে প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার, সাংস্কৃতিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানসহ আরও অনেক কিছুর ওপর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সাইটগুলোর তুলনায় নতুনদের জন্য গেমের জগতে প্রবেশ করা অনেক বেশি কঠিন।’

তিনি আরও জানান, এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। জনসনের ভাষায়, ‘অনেক অভিভাবক দেখেছেন যে তাদের সন্তান ও কিশোর-কিশোরীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় আগের তুলনায় অনেক কম সময় দিচ্ছে। এতে তারা বেশ আশ্বস্ত ও খুশি হয়েছেন। আবার কেউ কেউ আক্ষেপ করছেন—কারণ এতে তাদের সন্তানরা বন্ধুদের সঙ্গে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে দূরে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও যোগাযোগ করতে পারছে না।’

ই-সেফটি কমিশনারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে কতগুলো অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে এবং এই নিষেধাজ্ঞার সামগ্রিক প্রভাব কী—তা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই নিষেধাজ্ঞা ‘প্রকৃত পরিবর্তন আনছে’ এবং বিশ্বজুড়ে অন্য নেতারাও অস্ট্রেলিয়ার এই মডেল অনুসরণের কথা ভাবছেন। তিনি আরও বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশের সুযোগ কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ায় তরুণ অস্ট্রেলীয়রা অফলাইনে নিজেদের কমিউনিটি ও পরিচয় গড়ে তোলার জন্য আরও তিন বছর সময় পাচ্ছে। গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানোর মাধ্যমেই এর সূচনা হয়েছে।’

সময়ই বলে দেবে

১৪ ডিসেম্বর বন্ডি বিচে গুলিবর্ষণের ঘটনার সময় অ্যামির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা একটি অপ্রত্যাশিত সুবিধা এনে দেয়। ওই দিন ইহুদিদের উৎসব ‘হানুকা’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে ১৫ জন নিহত হন এবং আরও অনেকে আহত হন।

১৫ ডিসেম্বর নিজের ডায়েরিতে অ্যামি লেখে, ‘বন্ডি বিচের ঘটনার পর আমি খুশি ছিলাম যে আমি টিকটকে খুব বেশি সময় দিইনি। সেখানে থাকলে হয়তো আমাকে প্রচুর নেতিবাচক তথ্য এবং সম্ভাব্য বিরক্তিকর কনটেন্টের মুখোমুখি হতে হতো।’

অ্যামি জানায়, নিষেধাজ্ঞার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সময় কাটানো অর্ধেকে নেমে এসেছে। টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম এখনও তার কাছে মজাদার মনে হলেও স্ন্যাপচ্যাট না থাকাটা পুরো অভিজ্ঞতাই বদলে দিয়েছে। তার ভাষায়, ‘স্ন্যাপচ্যাট থেকেই আমার ফোনে সবচেয়ে বেশি নোটিফিকেশন আসত। মূলত ওই অ্যাপটাই আমাকে বারবার ফোন হাতে নিতে বাধ্য করত, তারপর একে একে অন্য সব অ্যাপ খুলে দেখতাম।’

অ্যামির মা ইউকো লক্ষ্য করেছেন, তার মেয়ে এখন নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে আগের চেয়ে বেশি সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, ‘আমরা পুরোপুরি নিশ্চিত নই, এই পরিবর্তন সরাসরি নিষেধাজ্ঞার ফল নাকি ছুটির প্রভাব।’ উল্লেখ্য, অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত স্কুল ছুটি থাকে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞা শেষ পর্যন্ত ইতিবাচক না নেতিবাচক পরিবর্তন আনবে—তা এখনই বলা কঠিন। একমাত্র সময়ই এর উত্তর দেবে।’