অনুদান পাওয়া শার্লক হোমসের দুর্লভ প্রথম সংস্করণ নিলামে বিক্রি হলো ১৮ লাখ টাকায়

পুরনো দাতব্য বইয়ের দোকানে ধুলো মাখছিল বইটি। সেটি যে স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের সৃষ্ট শার্লক হোমস সিরিজের দুর্লভ প্রথম সংস্করণ, তা টের পায়নি কেউ।

holmes-first-edition
ছবি: সংগৃহীত

সম্প্রতি অক্সফ্যামের একটি দোকান থেকে উদ্ধার হওয়া সেই দুর্লভ বইটি নিলামে বিক্রি হলো ১১ হাজার ৫২০ পাউন্ডে—বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৮ লাখ টাকা।

বিখ্যাত এই গোয়েন্দা সিরিজের দ্বিতীয় উপন্যাস দ্য সাইন অভ ফোর। দাতব্য সংস্থা অক্সফ্যামের শ্রুজবেরি শাখার দোকানে বইটির দুর্লভ প্রথম সংস্করণের খোঁজ মেলে। গত বৃহস্পতিবার বনহ্যামস নিলাম ঘরে সেটি নিলামে তোলা হয়।

১৮৯০ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে খামখেয়ালি স্বভাবের এই গোয়েন্দার রোমাঞ্চকর অভিযানের কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। বইটিতে এখনও সেই সময়কার পুরনো লাল কাপড়ের বাঁধাই অক্ষত রয়েছে।

স্কটল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী লেখকের উনিশ শতকের এই অমর সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে পরবর্তীকালে বহু নাটক, সিনেমা ও টিভি সিরিজ তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম বেনেডিক্ট কাম্বারব্যাচ অভিনীত বিবিসি-র জনপ্রিয় টিভি সিরিজ ‘শার্লক’। 

নিলামে বিক্রি হওয়া এই বিশেষ কপিটির অন্যতম আকর্ষণ হলো এর বুকপ্লেট। সেখান থেকে জানা গেছে, বইটি এক সময় র‍্যাডনরশায়ারের হাই শেরিফ জেমস বার্জেস বুটের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।

দ্য সাইন অভ ফোরের প্রথম সংস্করণ বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৯ লাখ টাকায়। ছবি: বনহ্যামস

অক্সফ্যামের শ্রুজবেরি শাখার বইয়ের দোকানের ম্যানেজার টম কটন বলেন, ‘দরাজ হৃদয়ের এক নিয়মিত দাতা বইটি আমাদের দিয়েছিলেন। পুরনো বইয়ের কদর বুঝতেন তিনি। তার দেওয়া বই আমাদের দোকানে সযত্নে সাজানো দেখে তিনি খুব খুশি হতেন। শার্লক হোমসের পুরনো সংস্করণ হওয়ায় প্রথম থেকেই আমার মনে হয়েছিল, বইটি বেশ দামি।’

মজা করে টম আরও বলেন, ‘তবে প্রাচীন বইয়ের সঠিক মূল্য নির্ধারণ করার মতো শার্লক হোমসের সেই ক্ষুরধার বিশ্লেষণ ক্ষমতা আমার নেই। এই গোয়েন্দা কাহিনির মিসেস হাডসনের সঙ্গেই আমার বেশি মিল। তাই বইটির আসল দাম বুঝতে আমাদের দলের সবাইকে রীতিমতো মাথা ঘামাতে হয়েছিল।’

এই নিলামের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে অক্সফ্যামের প্রতিনিধি ইয়ান ফকিংহ্যাম বলেন, ‘আমাদের দোকানে দান করা বই বিক্রি করে যে অর্থ সংগ্রহ হয়, তা সরাসরি জনকল্যাণমূলক কাজেই ব্যয় করা হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় জীবনদায়ী ত্রাণ পৌঁছানো থেকে শুরু করে প্রান্তিক এলাকার মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানীয় জলের বন্দোবস্ত করা—এই অর্থ মানুষের কাজেই লাগে।’

ইয়ান আরও বলেন, ‘অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকেও যে বড়সড় বদল আসতে পারে, এই নিলাম তারই প্রমাণ। হোমস নিজে বলত, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র অনেক সময় চোখের সামনেই লুকিয়ে থাকে। আমরা সবাইকে অনুরোধ করব, পুরনো বই আমাদের সংস্থায় দান করুন। অথবা আমাদের দোকানে এসে বই খুঁজুন। কে বলতে পারে, হয়তো আপনারাও কবে এমন কোনো রত্নের খোঁজ পেয়ে যাবেন!’