প্রযুক্তির অগ্রগতির পরও মানসিক সক্ষমতায় আগের প্রজন্ম থেকে পিছিয়ে জেন জি
গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে পাঠ্যবইয়ের বিকল্প হিসেবে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট সরবরাহে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ বিস্তৃত করা এবং তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দেয়নি; বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির পরও মানসিক সক্ষমতায় আগের প্রজন্ম থেকে পিছিয়ে জেন জি
গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলগুলোতে পাঠ্যবইয়ের বিকল্প হিসেবে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট সরবরাহে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হয়েছে। লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ বিস্তৃত করা এবং তথ্যপ্রাপ্তি সহজ করা। তবে সাম্প্রতিক গবেষণা ও বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোগ প্রত্যাশিত ফল দেয়নি; বরং শিক্ষার্থীদের জ্ঞানীয় সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফরচুন সাময়িকী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০২ সালে মেইন অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য ল্যাপটপ কর্মসূচি চালুর মধ্য দিয়ে এ উদ্যোগের সূচনা হয়। পরে তা সারা দেশে বিস্তৃত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীদের মানসিক ও জ্ঞানীয় দক্ষতা আগের প্রজন্মের তুলনায় কমে যাচ্ছে বলে দাবি করছেন একাধিক গবেষক।
স্নায়ুবিজ্ঞানী জ্যারেড কুনি হরভথের মতে, জেন জি প্রজন্ম আধুনিক ইতিহাসে প্রথম প্রজন্ম যারা মানসম্মত বিভিন্ন পরীক্ষায় আগের প্রজন্মের তুলনায় কম ফল করছে। তার ভাষায়, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম ও কম্পিউটারনির্ভর শিক্ষা মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং গভীরভাবে শেখার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।
আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন পরীক্ষার তথ্যেও দেখা গেছে, যারা কম্পিউটারের সামনে বেশি সময় কাটায় তাদের ফল তুলনামূলকভাবে খারাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক কাজ থেকে অন্য কাজে দ্রুত সরে যাওয়া বা ‘টাস্ক-সুইচিং’ স্মৃতিশক্তি দুর্বল করে এবং শেখাকে পৃষ্ঠস্থ করে তোলে।
অন্যদিকে, জরিপে দেখা গেছে শিক্ষকরা প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা শিক্ষামূলক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে কাটানো সময়ের বড় অংশ পড়াশোনার বাইরের কাজে ব্যয় করে। সামাজিক মাধ্যম ও গেমিং অ্যাপগুলোর নকশা এমন যে ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় এতে যুক্ত থাকে, যা মনোযোগ ধরে রাখার সক্ষমতাকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে।
এ পরিস্থিতিতে অনেক অঙ্গরাজ্যে স্কুলে মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অধিকাংশ স্কুলেই এখন শ্রেণিকক্ষে ফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যদিও বাস্তবায়নে ভিন্নতা দেখা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা এর অনিয়ন্ত্রিত ও বাছবিচারহীন ব্যবহার। কার্যকর নীতিমালা, গবেষণাভিত্তিক ডিজিটাল টুল নির্বাচন এবং স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণের মধ্য দিয়েই শিক্ষাব্যবস্থাকে ভারসাম্যে আনা সম্ভব।