জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থী শারমিন হত্যা মামলায় স্বামী দুই দিনের রিমান্ডে

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ফাহিমকে ওই রাতেই ইসলামনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

650938625_964844376103820_850083067478720667_n_0
ছবি:সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন জাহান হত্যাকাণ্ডের মামলায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত এই আদেশ দেন। ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক মো. শহিদুজ্জামান গত ১৬ মার্চ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওইদিন আদালত রিমান্ড সংক্রান্ত শুনানির জন্য আজ ২৪ মার্চ দিন নির্ধারণ করেন।

রিমান্ড শুনানির জন্য আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম জামিন চেয়ে আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ফাহিমকে ওই রাতেই ইসলামনগর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের ধরতে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নিহত শারমীন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর শারমীন ও ফাহিম গত বছরের ২৪ জুন বিয়ে করে বিষয়টি পরিবারকে জানান। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়কে কেন্দ্র করে শারমীন ও ফাহিমের মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি শারমীন পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ মার্চ বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম মুঠোফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান যে শারমীন গুরুতর অসুস্থ এবং তাকে বাসায় আসতে বলেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মনিরুল শারমীনকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর আশপাশের লোকজনের সহায়তায় শারমীনকে সাভারের বেসরকারি এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শারমীনের কপালের ডান পাশে এবং মাথার উপরে গভীর কাটা রক্তাক্ত জখম ছিল।

ওই ঘটনায় গত ১৫ মার্চ শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।