চট্টগ্রামে বই বিনিময় উৎসবে হাজারো পাঠকের সমাগম
দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস।
চট্টগ্রামে বই বিনিময় উৎসবে হাজারো পাঠকের সমাগম
দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে চট্টগ্রামের জামালখান রোডে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৭ম বই বিনিময় উৎসব। পুরনো বইয়ের বদলে নতুন বই পেতে এদিন উৎসবস্থলে ভিড় করেন হাজারো পাঠকরা।
দিনভর চলা এই উৎসব শেষ হয় রাত ৮টার দিকে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় এটি আয়োজন করে সোশ্যাল অর্গানাইজার ‘ফেইলড ক্যামেরা স্টোরিজ’। এ আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
দিনব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন করেন একুশে পদকপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক হরিশংকর জলদাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড চট্টগ্রাম ব্যুরোর প্রধান শামসুদ্দিন ইলিয়াস এবং সিটি ব্যাংকের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আল জোবায়েদ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাঈদ খান সাগর।
এদিন জামালখান রোডে সকাল থেকেই ভিড়ে জমাতে শুরু করেন হাজারো বইপ্রেমী, বিনিময়ের জন্য তারা সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন আগে পড়া বই। উৎসবে মোট ১১টি স্টল বসানো হয়। ৩০ হাজারের বেশি বই বিনিময় হওয়ার আশা করছিলেন আয়োজকরা।

ছবি: মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন
প্রচলিত মেলার মতো বিক্রয়-ভিত্তি নয়, চট্টগ্রামের এই বই বিনিময় উৎসবে একজন পাঠক তার পঠিত বইটি রেখে অন্য বই বিনিময় করে নিয়ে যেতে পারেন বিনামূল্যে। জ্ঞান ভাগাভাগি করে নেওয়াই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য।
‘বই নয়, জ্ঞানের বিনিময়’ স্লোগানে আয়োজিত এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে। করোনা মহামারির সময়ে যখন লকডাউন ও অনিশ্চয়তায় একুশে বইমেলাসহ অন্যান্য সাংস্কৃতিক আয়োজন প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, তখনই এই বই বিনিময় উৎসবের ধারণা তৈরি হয়।
ফিল্ম অ্যাকটিভিস্ট ও বইপ্রেমী সাঈদ খান সাগর, মাহির আজরাফ এবং অঙ্কন দে অনিমেষ উৎসবের প্রথম সংস্করণটি শুরু করেছিলেন মাত্র ৬০০ বই সংগ্রহ করে। সেই প্রচেষ্টায় এক দিনে ৯ হাজারের বেশি বই বিনিময় হয়।

ছবি: মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন
এরপর থেকে এই উৎসবের জনপ্রিয়তা ও কার্যক্রম দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২২ সালে ২০ হাজারের বেশি বই বিনিময় হয়। এরই ধারাবাহিকতায় একই বছর শীতকালেও আয়োজন করা হয় বই বিনিময় উৎসবের। সেই উৎসবে ৩০ হাজারের বেশি বই বিনিময় হয়েছিল। এরপর পঞ্চম উৎসবে জামালখানে একদিনে ৫০ হাজারের বেশি বই বিনিময় হয়।
আয়োজকরা বলছেন, উৎসবে ধারাবাহিকভাবে পাঠকের উপস্থিতি বাড়ছে। এই বই বিনিময় উৎসব এখন চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম প্রধান সাহিত্যিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে বলে জানান তারা।