জাকসু নির্বাচন নিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ সত্য নয়: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়, অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না করে গণমাধ্যমে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন, যা অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক।
জাকসু নির্বাচন নিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ সত্য নয়: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে বলা হয়, অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না করে গণমাধ্যমে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন, যা অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন নিয়ে অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে ‘অসত্য ও অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান ‘জাকসু ইলেকশনে ইঞ্জিনিয়ারিং দেখেছি’ শীর্ষক একটি বক্তব্য প্রদান করেন। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জাকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এর প্রেক্ষিতে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রশাসন তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাকসু নির্বাচন চলাকালীন কোনো প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট কিংবা উপস্থিত শতাধিক গণমাধ্যম প্রতিনিধি নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ উত্থাপন করেননি। নির্বাচন শেষে কিছু অভিযোগ পাওয়া গেলেও সেগুলো নিষ্পত্তির জন্য গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি একটি আপিল বোর্ড গঠন করেন। বোর্ড অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে সম্পূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করেছে এবং সংশ্লিষ্টদের তা অবহিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘ ৩২ বছর পর অনুষ্ঠিত এই জাকসু নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়াই এর নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না করে গণমাধ্যমে নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগ তুলেছেন, যা অপ্রত্যাশিত ও দুঃখজনক।
এ সময় জাকসু নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে অধ্যাপক নাহরিনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় প্রশাসন।
এদিকে, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার মতপ্রকাশকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে উদ্ভূত ধারাবাহিক হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকির প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
শনিবার প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খানের বাসভবনে একটি বেনামি হুমকিমূলক চিঠি পাঠানো হয়। প্রশাসনের মতে, এই ঘটনা তার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
প্রশাসন আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খানের মতপ্রকাশকে কেন্দ্র করে তাকে উদ্দেশ্য করে ধারাবাহিকভাবে হয়রানি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাসভবনে প্রেরিত বেনামি চিঠি বিষয়টিকে আরও গুরুতর করেছে।
এ ঘটনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসনের কাছে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে।