ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও উৎসবমুখর আয়োজনের মধ্য দিয়ে নবীনতম ‘ঐত্রী’ ব্যাচের সদস্যদের বরণ করে নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ।
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ–এর নবীন বরণ অনুষ্ঠান ‘ঐত্রী বরণ’। দুপুর ২টায় শুরু হয়ে অনুষ্ঠানটি চলে রাত পর্যন্ত। আয়োজনজুড়ে ছিল নবীনদের মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবৃত্তিশিল্পী, উপস্থাপক ও নির্দেশক ফয়জুল্লাহ সাঈদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপার্সন তামান্না রহমান এবং থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের শিক্ষক উপদেষ্টা তানভীর নাহিদ খান। অনুষ্ঠানে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন সংগঠনটির মডারেটর ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রাশেদা রওনক খান।
সভাপতির বক্তব্যে ড. রাশেদা রওনক খান বলেন,
“বাঙালিত্বের প্রাণভোমরা আমাদের সুদীর্ঘ ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিকে নবীনদের প্রাণশক্তিতে নবরূপে ও নবউদ্যমে সঞ্চারিত করতে সদা প্রস্তুত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ।”
সংগঠনের সভাপতি নাফিয়া ফারজানা অমিয়া বলেন,
“বাংলা সংস্কৃতির সৌন্দর্যকে প্রতিটি ক্ষণে জাগিয়ে তুলে বিভিন্ন আয়োজন ও পরিবেশনার মাধ্যমে বাঙালিয়ানার গৌরব নবীন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।”
সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান রাকামনি বলেন,
“বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের শেকড়ে গভীরভাবে প্রোথিত থেকে বছরজুড়ে নানা আয়োজনের মাধ্যমে বাঙালিয়ানার সৌন্দর্য নবীনদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদের সংস্কৃতিচর্চার প্রতিশ্রুতি।”
সংগঠনটির ব্যাচগুলোর নামকরণেও রয়েছে বাঙালিয়ানার স্বাতন্ত্র্য। বাংলা বর্ণমালার ধারাবাহিকতায় অয়োময়, আত্রেয়ী, ইচ্ছামতি, ঈশান, উচ্ছ্বাস, ঊষা, ঋদ্ধ ও একান্তিকা ব্যাচের পর নতুন করে যুক্ত হলো ‘ঐত্রী’ ব্যাচ। ‘ঐত্রী’র আগমন সংগঠনটিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।
উল্লেখ্য, যাত্রালগ্ন থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক সংসদ সুস্থ বাঙালি সংস্কৃতিচর্চা ও এর বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা রেখে চলেছে। নিজস্ব আয়োজনের পাশাপাশি দেশব্যাপী বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সংগঠনটির অংশগ্রহণ ও পরিবেশনা প্রশংসিত হয়েছে। বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির সহাবস্থানে সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতার চর্চা তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সংগঠনটি নিয়মিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।