ছুটির দিনে খেলার মাঠ উন্মুক্ত রাখাসহ একাধিক নির্দেশনা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

একই সঙ্গে খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতারকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Ministry of Education

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলার মাঠ উন্মুক্ত রাখা, খেলাধুলা পাঠক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে একাধিক নির্দেশনা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৫ মার্চ) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন ও নির্দেশনায় এসব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান খেলার মাঠ সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শেষে ও ছুটির দিনে তা শিক্ষার্থী ও স্থানীয় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে খেলাধুলাকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি থেকে ফুটবল, ক্রিকেট, দাবা, কারাতে, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতারকে জাতীয় শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শারীরিক চর্চা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে আলাদা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার আগে সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিদিনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা, প্রতি সপ্তাহে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ ও বাগান পরিচর্যা কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে জারি করা আরেক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্র ও আবর্জনা এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে ঝুঁকি তৈরি করছে। এ পরিস্থিতিতে ঈদের ছুটি শেষে প্রতিষ্ঠান খোলার আগে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে ডেঙ্গুসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

এসব নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নে দেশের সব স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।