সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছেন শিক্ষামন্ত্রী
সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার কথা ভাবছেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, সারা দেশে একই প্রশ্নপত্রে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর মিন্টু রোডে তার সরকারি বাসভবনে এডুকেশন রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশের (ইরাব) সদস্যদের সঙ্গে ইফতার-পরবর্তী মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, আসন্ন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও নকল ঠেকাতে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করবে। তিনি বলেন, আগামী ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে মাঠপর্যায়ে কঠোর তদারকি থাকবে। এ বিষয়ে শিগগিরই সব শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে।
তিনি আরও বলেন, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলেও অতীতের মতো এবারও তা সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কেউ প্রশ্নফাঁসের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাশাপাশি পরীক্ষার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে তিনি নিজেও মাঠপর্যায়ে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান।
সারা দেশে ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নপত্রের পরিবর্তে একক প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী অনেক বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা একই প্রশ্নে অনুষ্ঠিত হয়। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বাংলাদেশেও একই পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে সরকার ভাবছে এবং আগামী বছর থেকে এটি বাস্তবায়নের উপায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিজ মন্ত্রণালয়কে ‘ইবাদতখানা’ হিসেবে উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, তিনি আগামী ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে এমন একটি ভিত্তি গড়ে তুলতে চান, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকবে। তার মতে, ধীরে ও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যাতে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়।
এ সময় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাজের ধীরগতির বিষয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে এসে দ্রুত ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নই সবার প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।