primary

আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষ (২০২৭) থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে চারটি নতুন বাধ্যতামূলক বিষয় চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে আরও দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে ২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

৮ জুন সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা বিষয়ে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মসূচি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস এবং আর্ট অ্যান্ড কালচার নামে দুটি নতুন বই যুক্ত করা হবে। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে আনন্দময় শিক্ষা (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস) এবং টেকনিক্যাল শিক্ষা (টিভিইটি) বাধ্যতামূলক বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তা আবু নাসের টুকু টিবিএসকে জানান, খেলাধুলাভিত্তিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে তারা দলগত কাজ, নেতৃত্ব, মতভেদকে সম্মান করা এবং সামাজিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে শিশুদের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড ও সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে আর্ট অ্যান্ড কালচার বিষয়টি শিক্ষার্থীদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার সঙ্গে পরিচিত করবে। এতে তারা নিজেদের সাংস্কৃতিক শিকড় সম্পর্কে জানতে পারবে এবং মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী , আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে পাঠদানকে আরও আকর্ষণীয় ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করা হবে। এতে মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রতি আগ্রহ ও অংশগ্রহণ বাড়বে। পাশাপাশি বর্তমান শ্রমবাজার ও বৈশ্বিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকনিক্যাল শিক্ষা চালুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৭ জানুয়ারি এবং শেষ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি। একই বছরের এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে ৬ জুন এবং চলবে ১৩ জুলাই পর্যন্ত।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে পাঠ্যবই পরিমার্জনের উদ্যোগ নেয়। এর ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাঠ্যবইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান সম্পর্কিত বিষয়বস্তু সংযোজন করা হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষেও ইতিহাস ও দক্ষতাভিত্তিক বিভিন্ন বিষয়ে নতুন সংযোজন এবং পরিমার্জন আনা হবে বলে জানিয়েছে সসংশ্লিষ্ট সূত্র।