ভ্যালেন্টাইনস ডে নয়, এলো ‘গ্যালেন্টাইনস ডে’

ফেব্রুয়ারি মাস এলেই প্রেম, ফুল আর চকোলেটের চাপে পিষ্ট হতে হবে কেন? এই বছরটা বরং একটু অন্যভাবে ভাবুন। ভ্যালেন্টাইনস ডে বা ভালোবাসা দিবসের গতানুগতিক চাপকে ছুটি দিয়ে বরং উদযাপনে মাতুন ‘গ্যালেন্টাইনস ডে’।

GALENTINEZZ
ছবি: সিএনএন

জনপ্রিয় সিটকম ‘পার্কস অ্যান্ড রিক্রিয়েশন’-এর হাত ধরে এই দিবসের জন্ম। ২০১০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি প্রচারিত একটি পর্বে এই ধারণার সূত্রপাত। সেখানে অভিনেত্রী অ্যামি পোহলারের চরিত্র ‘লেসলি’ নিজের প্রেমজীবনের হতাশা—মায়ের জন্য বাজে ডেট ঠিক করা এবং সঙ্গীর অভদ্র আচরণ—কাটাতে একটি উপায় বের করেন। তিনি ভালোবাসা দিবসের প্রথাগত রীতিনীতির বিরুদ্ধে গিয়ে বান্ধবীদের নিয়ে আনন্দ করা এবং নিজেকে উদযাপনের জন্য একটি দিন ঠিক করেন।

আপনি হয়তো সেই এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন নারীর একজন, যারা সম্পর্কে নেই। আবার সম্পর্কে থাকলেও হয়তো সঙ্গীর সঙ্গে সারাক্ষণ কাটাতে কাটাতে একটু নিজের মতো সময় চাইছেন। সেক্ষেত্রে ভ্যালেন্টাইনস ডের আগের দিন—গ্যালেন্টাইনস ডে—আপনার জন্যই।

এক সময়ের টিভি পর্ব থেকে শুরু হয়ে এই দিন এখন বেশ জনপ্রিয় এবং বাণিজ্যিকভাবেও প্রতিষ্ঠিত। সাধারণত বান্ধবীদের সঙ্গে ব্রাঞ্চ, আড্ডা আর খানাপিনা দিয়েই দিনটি কাটানো হয়।

বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটান, কিংবা ভরা সংসারে একটু একা হওয়ার সুযোগ খুঁজুন, অথবা একাই দিনটি উপভোগ করুন—যেভাবেই কাটান না কেন, গত কয়েক বছরের চ্যালেঞ্জের পর নিজের ভেতরে একটু ফিরে তাকানো মন্দ নয়। নিজেকেও একটু যত্ন, একটু মমতা দেওয়া দরকার।

নিউইয়র্কভিত্তিক ডেটিং ও সম্পর্কবিশেষজ্ঞ র‍্যাচেল ডিএল্টো বলেন, ‘সুস্থ সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নিজেকে ভালোবাসা। খেয়াল করুন, আপনার জীবনে কারা আপনাকে উৎসাহ দিচ্ছে না। আত্মভালোবাসা ভেতরের কাজ, কিন্তু আশপাশের মানুষদের প্রভাবেই অনেক সময় আমাদের আত্মবিশ্বাস আর আত্মমর্যাদাবোধ নড়ে যায়।’

হুট করে নিজেকে ভালোবাসা কঠিন মনে হতে পারে। তবে লস অ্যাঞ্জেলেস ভিত্তিক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ও লেখক লরেন কুকের মতে, নিজেকে অন্য একজন আলাদা মানুষ হিসেবে কল্পনা করে শুরু করা যেতে পারে।

লরেন কুক বলেন, ‘যেমন আপনি অন্য কাউকে ভ্যালেন্টাইনস ডের উপহার দেন, সুন্দর কার্ড লেখেন বা একসঙ্গে একান্ত সময় কাটান—ঠিক সেই চর্চাগুলো নিজের ভেতরের সত্তার সঙ্গেও করুন। আমরা প্রায়ই অন্যের সঙ্গে যতটা ভালো ব্যবহার করি, নিজের সঙ্গে ততটা করি না। ভ্যালেন্টাইনস ডে হতে পারে আত্মপ্রেম ও আত্ম-সহানুভূতির চর্চা করার মোক্ষম সুযোগ।’

নিজেকে সত্যিকারের ভালোবাসতে হলে সারাজীবনে জমে থাকা সামাজিক শর্তগুলো একটু পাশ কাটাতে হবে—যেগুলো আমাদের শেখায় কীভাবে দেখতে হবে, কীভাবে আচরণ করতে হবে, কীভাবে মূল্যায়িত হতে হবে। এসবই ধীরে ধীরে আমাদের স্বতঃস্ফূর্ত আত্মভালোবাসাকে আড়াল করে দেয়।

নিউইয়র্ক ভিত্তিক পরিবার ও সম্পর্ক থেরাপিস্ট ড্যামন এল জ্যাকবস বলেন, ‘মনে রাখবেন, আপনি নিজেকে ভালোবাসার ক্ষমতা নিয়েই জন্মেছিলেন। শিশুরা জানে তারা সুন্দর এবং শক্তিশালী, এর জন্য তাদের অন্যের স্বীকৃতির প্রয়োজন হয় না।’

জ্যাকবসের মতে, নিজেকে গভীরভাবে ভালোবাসার উপায় হলো নিজের সঙ্গে একান্ত সময় কাটানো এবং পছন্দের কাজগুলোর মাধ্যমে নিজেকে নতুন করে চেনা। এতে একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। ‘আপনি যখন নিজের প্রতি যত্ন ও শক্তি বিনিয়োগ করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই অন্যদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেন,’ বলেন তিনি।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘আনলার্নিং’—অর্থাৎ নেতিবাচক চিন্তার বদলে ইতিবাচক দিকগুলো সচেতনভাবে মনে আনা। আমরা প্রায়ই নিজের ভুল আর সীমাবদ্ধতাতেই আটকে থাকি। ভালো দিকগুলোকে গুরুত্ব দিলে মস্তিষ্কও ধীরে ধীরে সেদিকেই ঝুঁকতে শেখে।

জ্যাকবস যাকে বলেন ‘প্রমাণভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি’—নিজেকে বিচার করুন আপনার জীবনের বাস্তব অর্জন, কাজ আর প্রভাব দিয়ে; নিজের ভেতরের কঠোর সমালোচকের কণ্ঠ দিয়ে নয়।

আপনি কী ভালো অভিজ্ঞতা পেয়েছেন, কাকে সাহায্য করেছেন, কী ভালো কাজ করেছেন—সেগুলো মনে করুন।

তার কথায়, ‘ভালোবাসা অনুভব করতে চাইলে ভালোবাসাপূর্ণ কাজ করুন।’

পৃথিবীতে, যেখানে ভালোবাসা আর সহমর্মিতা অনেক সময় কম মনে হয়, এর চেয়ে ভালো পরামর্শ আর কী হতে পারে?