আইসক্রিম ব্যবসায় আর থাকতে চায় না বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্যপণ্য কোম্পানি নেসলে

বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য ও পানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নেসলে তাদের আইসক্রিম ব্যবসার ইতি টানছে। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের অবশিষ্ট আইসক্রিম ব্যবসা যৌথ অংশীদার ‘ফ্রনেরি’র কাছে বিক্রি করার বিষয়ে ‘উন্নত পর্যায়ের আলোচনা’ চলছে। 

nestle-sorvetes
ছবি: নিওফিড

এই আইসক্রিম বিভাগে ‘হ্যাগেন-ডাজ’ এবং ‘ড্রামস্টিক’-এর মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ড রয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ (১৩০ কোটি ডলার)। নেসলে আগামী এক বছরের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ফ্রনেরির কাছে এসব ব্র্যান্ড বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে, তবে যৌথ উদ্যোগে তাদের অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে।

এই ঘোষণার পর জুরিখে নেসলের শেয়ারের দাম ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যদিও পরবর্তীতে তা কিছুটা কমেছে।

নেসপ্রসো এবং কিটক্যাট নির্মাতা এই কোম্পানিটি তাদের বিশাল কার্যক্রমকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে চায়। নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফিলিপ নাভরাতিল দায়িত্ব নেওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। গত সেপ্টেম্বরে লরেন্ট ফ্রেক্সকে এক অধস্তন সহকর্মীর সাথে রোমান্টিক সম্পর্কের তথ্য গোপন করার দায়ে আকস্মিক বরখাস্ত করার পর নাভরাতিল দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পূর্ণ বছরের আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদনে নেস্টলে জানিয়েছে, তারা এখন থেকে কফি, পোষা প্রাণীর খাবার, পুষ্টিপণ্য এবং খাদ্য ও স্ন্যাকস—এই চারটি খাতে বেশি গুরুত্ব দেবে। এক বিবৃতিতে নাভরাতিল বলেন, ‘আমরা আমাদের সবচেয়ে শক্তিশালী ব্র্যান্ডগুলোর নেতৃত্বে চারটি মূল ব্যবসায় মনোযোগ দিচ্ছি।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নেসলের ছয়টি আইসক্রিম ব্র্যান্ড তাদের অন্যান্য খাত থেকে ‘মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে’। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা এই ছয়টি ব্যবসা ধরে রেখেছিলাম কারণ আমরা ভেবেছিলাম প্রবৃদ্ধি বাড়ানো সম্ভব। কিন্তু সেগুলোর কোনো বৈশ্বিক ব্যাপ্তি নেই। ফ্রনেরি যেভাবে প্রবৃদ্ধি ঘটাতে পারে, আমরা সেভাবে পারি না।’ 

দশ বছর আগে নেসলে এবং যুক্তরাজ্যের আইসক্রিম নির্মাতা আরএন্ডআর  মিলে ফ্রনেরি গঠন করেছিল। ২০১৯ সালে নেসলে তাদের মার্কিন আইসক্রিম ইউনিট ৪ বিলিয়ন ডলারে ফ্রনেরির কাছে বিক্রি করে দেয়।

ব্যবসায়িক পরিধি ছোট করার অংশ হিসেবে নেসলে ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৬,০০০ কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। অটোমেশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে খরচ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নতুন সিইও নাভরাতিলের পারফরম্যান্স বাড়ানোর প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বড় ধরনের শিশুখাদ্য (ইনফ্যান্ট ফর্মুলা) বাজার থেকে তুলে নেওয়ার (রিকল) ঘটনা। ফ্রান্সে গুইগোজ এবং যুক্তরাজ্যের এসএমএ ব্র্যান্ডের ফর্মুলা পণ্যের ঘাটতি এবং ফেরত নেওয়ার কারণে এ বছর নেসলের বিক্রয় প্রবৃদ্ধিতে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

গত মাসে নেসলে বেশ কিছু দেশ থেকে নির্দিষ্ট ব্যাচের শিশুখাদ্য তুলে নেয়। গত ডিসেম্বরে কিছু স্যাম্পলে ‘সেরিউলাইড’ নামক টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদানের উপস্থিতি পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই টক্সিন সেবনে বমি ও ডায়রিয়া হতে পারে।

ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা তিন শিশুর মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করছে যারা বাজার থেকে তুলে নেওয়া ওই ফর্মুলা খেয়েছিল। তবে মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, ‘এখন পর্যন্ত বৈজ্ঞানিকভাবে এর কোনো সরাসরি সম্পর্ক প্রমাণিত হয়নি।’ 

নাভরাতিল জানান, ফ্রেঞ্চ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনো তাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। নেসলের নাভরাতিল বলেন যে, ফরাসি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এখনো নেসলের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তিনি আরও যোগ করেন যে, নেসলের নিজস্ব মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তারা ফর্মুলায় সাধারণত ব্যবহৃত তেলের মিশ্রণে সেরিউলাইড শনাক্ত করতে পেরেছেন, যা আগে ক্ষতিকারক টক্সিন হিসেবে বিবেচিত হতো না।

এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন শিশুখাদ্যে সেরিউলাইড ব্যবহারের নিরাপদ মাত্রার ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।