কম্বোডিয়ায় ল্যান্ডমাইন শনাক্তকারী বীর ইঁদুর ‘মাগাওয়া’র ভাস্কর্য উন্মোচন
আফ্রিকান এই জায়ান্ট পাউচড ইঁদুরটি ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের কর্মজীবনে ১০০টিরও বেশি ল্যান্ডমাইন ও অন্যান্য বিস্ফোরক খুঁজে বের করেছিল।
কম্বোডিয়ায় ল্যান্ডমাইন শনাক্তকারী বীর ইঁদুর ‘মাগাওয়া’র ভাস্কর্য উন্মোচন
আফ্রিকান এই জায়ান্ট পাউচড ইঁদুরটি ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের কর্মজীবনে ১০০টিরও বেশি ল্যান্ডমাইন ও অন্যান্য বিস্ফোরক খুঁজে বের করেছিল।
ল্যান্ডমাইন শনাক্ত করে অসংখ্য মানুষের জীবন বাঁচানো বিশ্বখ্যাত ইঁদুর ‘মাগাওয়া’র বীরত্বগাথা স্মরণীয় করে রাখতে কম্বোডিয়ায় একটি ভাস্কর্য উন্মোচন করা হয়েছে। মাইন শনাক্তকারী কোনো ইঁদুরের সম্মানে বিশ্বে এটিই প্রথম ভাস্কর্য। খবর বিবিসি’র।
আট বছর বয়সে মারা যাওয়া এই আফ্রিকান জায়ান্ট পাউচড ইঁদুরটি ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের কর্মজীবনে ১০০টিরও বেশি ল্যান্ডমাইন ও অন্যান্য বিস্ফোরক খুঁজে বের করেছিল।
৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিক খনি সচেতনতা দিবসকে সামনে রেখে গত শুক্রবার কম্বোডিয়ার সিয়াম রিপে স্থানীয় শিল্পীদের খোদাই করা পাথর দিয়ে তৈরি এই ভাস্কর্যটি উন্মোচন করা হয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ল্যান্ডমাইন এখনো কম্বোডিয়ার জন্য একটি বড় ঝুঁকি। দেশটির ১০ লাখেরও বেশি মানুষ এখনো ল্যান্ডমাইন এবং অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ থাকা জমিতে বসবাস ও কাজ করছেন।
বেলজিয়ামের দাতব্য সংস্থা ‘অ্যাপোপো’ মাগাওয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর ২০১৬ সালে সে কম্বোডিয়ায় তার কাজ শুরু করে। বিস্ফোরকের ভেতরে থাকা রাসায়নিক ঘ্রাণ নেওয়ার তীব্র ক্ষমতা ছিল তার। কোনো মাইনের অস্তিত্ব পেলে সে তার হ্যান্ডলারদের সংকেত দিত, যার ফলে পরবর্তীতে সেগুলো নিরাপদে সরিয়ে ফেলা সম্ভব হতো।
নিজের কর্মজীবনে মাগাওয়া প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার বর্গমিটার (প্রায় ২০টি ফুটবল মাঠের সমান) এলাকা তল্লাশি করে মাইনমুক্ত করেছে। একটি টেনিস কোর্টের সমান এলাকা তল্লাশি করতে মাগাওয়ার সময় লাগত মাত্র ২০ মিনিট, যা মানুষের ক্ষেত্রে কয়েক দিন পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।
২০২০ সালে মাগাওয়াকে তার বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘পিডিএসএ গোল্ড মেডেল’ দেওয়া হয়, যা প্রাণীদের জন্য ‘জর্জ ক্রস’ পদকের সমতুল্য। সংস্থাটির ৭৭ বছরের ইতিহাসে মাগাওয়া ছিল প্রথম কোনো ইঁদুর, যে এই সম্মানজনক পদক লাভ করে। বয়সের কারণে অবসরে যাওয়ার পর ২০২২ সালে মাগাওয়া মারা যায়।
অ্যাপোপোর কম্বোডিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার মাইকেল রেইন শুক্রবার বলেন, ‘মাগাওয়ার এই ভাস্কর্যটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দেয় যে, এখানে এখনো অনেক কাজ বাকি আছে।’ তিনি আরও জানান, কম্বোডিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে নিজেদের সম্পূর্ণ মাইনমুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
অ্যাপোপো নব্বইয়ের দশক থেকে এই ইঁদুরগুলোকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, যাদের তারা ‘হিরোর্যাটস’ হিসেবে অভিহিত করে। ওজনে হালকা হওয়ায় এই ইঁদুরগুলোর চাপে মাইন বিস্ফোরিত হয় না, যা মানুষের তুলনায় এদের মাইন শনাক্তকরণে অনেক বেশি নিরাপদ করে তুলেছে।
দাতব্য সংস্থাটি জানায়, এই ইঁদুরগুলো শুধু মাইন শনাক্ত নয়, বরং যক্ষ্মার মতো সংক্রামক রোগ শনাক্তকরণের কাজেও ল্যাবরেটরির তুলনায় অনেক দ্রুত ফল দিতে পারে। এছাড়া তানজানিয়ায় বন্যপ্রাণী পাচার রোধেও এদের ব্যবহার করা হচ্ছে।
মাগাওয়ার মৃত্যুর পর তার উত্তরসূরি হিসেবে ‘রোনিন’ নামের অন্য একটি ইঁদুর এরই মধ্যে নতুন বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। ২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে কম্বোডিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় প্রিয়া বিহার প্রদেশে কাজ করে রোনিন ১০৯টি ল্যান্ডমাইন এবং ১৫টি অবিস্ফোরিত বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে, যা মাগাওয়ার আগের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে।