image_26

সোমবার ভল ডি হেবরন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। তারা জানায়, এটি ছিল এক জটিল অস্ত্রোপচার। দাতার মুখের মাঝখানের অংশের টিস্যু বা কলা গ্রহীতার মুখে বসানো হয়েছে। এই মহাযজ্ঞে প্রায় ১০০ জন পেশাদার কর্মী অংশ নেন। দলে ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইমিউনোলজিস্টরাও।

বার্সেলোনার এক হাসপাতালে ঘটে গেল এক যুগান্তকারী ঘটনা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একজনের মুখমন্ডল প্রতিস্থাপন করা হলো, যিনি স্বেচ্ছামৃত্যু বা ‘অ্যাসিস্টেড ডাইং’-এর মাধ্যমে পৃথিবী ছেড়েছেন। মৃত্যুর আগে তিনি নিজের মুখ দান করে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

সোমবার ভল ডি হেবরন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে। তারা জানায়, এটি ছিল এক জটিল অস্ত্রোপচার। দাতার মুখের মাঝখানের অংশের টিস্যু বা কলা গ্রহীতার মুখে বসানো হয়েছে। এই মহাযজ্ঞে প্রায় ১০০ জন পেশাদার কর্মী অংশ নেন। দলে ছিলেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ইমিউনোলজিস্টরাও।

হাসপাতালের ট্রান্সপ্লান্ট কোঅর্ডিনেটর এলিজাবেথ নাভাস বলেন, দাতা যে মানসিক পরিপক্বতা দেখিয়েছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। বিষয়টি সবাইকে ‘বাকরুদ্ধ’ করে দিয়েছে।

নাভাস বলেন, ‘যিনি নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি শেষ ইচ্ছা হিসেবে এক অচেনা মানুষকে নতুন জীবন দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। এটি সত্যিই বিশাল এক ব্যাপার।’

অঙ্গ প্রতিস্থাপনে বিশ্বসেরা

গ্রহীতার নাম কারমে। এক পোকার কামড় থেকে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণে তার মুখের টিস্যু পচে গিয়েছিল (নেক্রোসিস)। এতে তার কথা বলা, খাওয়া এবং দেখার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে কারমে বলেন, ‘বাড়িতে এখন যখন আয়নায় তাকাই, মনে হয় আমি আবার আগের মতো হয়ে উঠছি।’ তিনি জানান, তিনি খুব দ্রুত সেরে উঠছেন।

মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে দাতা ও গ্রহীতার লিঙ্গ ও রক্তের গ্রুপ এক হতে হয়। পাশাপাশি মাথার আকারও কাছাকাছি হওয়া প্রয়োজন।

প্রায় ৫ কোটি জনসংখ্যার দেশ স্পেন তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অঙ্গ প্রতিস্থাপনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০২১ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চতুর্থ দেশ হিসেবে তারা স্বেচ্ছামৃত্যুকে বৈধতা দেয়।

স্পেনে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি মুখ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এর অর্ধেকই করেছে ভল ডি হেবরন হাসপাতাল। ২০১০ সালে বিশ্বের প্রথম পূর্ণাঙ্গ মুখ প্রতিস্থাপনও করেছিল এই কাতালান হাসপাতালটি।

গোপনীয়তার স্বার্থে হাসপাতালের মুখপাত্র অস্ত্রোপচারের সঠিক তারিখ জানাননি। তবে তিনি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন যে, এটি ২০২৫ সালের শরৎকালে করা হয়েছিল।

স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত বছর দেশটিতে প্রায় ৬ হাজার ৩০০টি অঙ্গ প্রতিস্থাপন হয়েছে। এর মধ্যে কিডনি প্রতিস্থাপনই ছিল সবচেয়ে বেশি।