টিভি শো ও চলচ্চিত্র নির্মাণে এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা অ্যামাজনের

উৎপাদন ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি কমসংখ্যক সিনেমা ও সিরিজ বানাতে বাধ্য হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যামাজন প্রকাশ্যেই এআই ব্যবহারের পথে হাঁটছে।

ayaamaajn
ছবি: রয়টার্স

অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা চলচ্চিত্রও টিভি শো তৈরির প্রক্রিয়া দ্রুত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। এমন এক সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যখন হলিউডে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে— এআই চাকরি কমিয়ে দিতে পারে এবং বিনোদন শিল্পকে স্থায়ীভাবে বদলে দিতে পারে।

অ্যামাজন এমজিএম স্টুডিওর অভিজ্ঞ নির্বাহী আলবার্ট চেং এমন একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যারা নতুন এআই টুল তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে। চেং জানান, এই প্রযুক্তি নির্মাণ খরচ কমাবে এবং সৃজনশীল প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে। 

অ্যামাজন মার্চে একটি ‘ক্লোজড বেটা প্রোগ্রাম’ চালুর পরিকল্পনা করছে, যেখানে শিল্পের অংশীদারদের তাদের এআই টুলগুলো পরীক্ষার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। কোম্পানিটি মে মাসের মধ্যে এর ফলাফল প্রকাশের আশা করছে।

চেং এই ‘এআই স্টুডিও’কে একটি ‘স্টার্টআপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এটি অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের ‘টু পিজা টিম’ দর্শনে পরিচালিত—অর্থাৎ দলটি এতটাই ছোট হবে যে তাদের দুটি পিজা দিয়েই খাওয়ানো যাবে। এই দলে প্রধানত প্রোডাক্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং বিজ্ঞানীরা রয়েছেন, সাথে রয়েছে ছোট একটি সৃজনশীল ও ব্যবসায়িক দল।

উৎপাদন ব্যয় ক্রমেই বেড়ে যাওয়ায় অনেক কোম্পানি কমসংখ্যক সিনেমা ও সিরিজ বানাতে বাধ্য হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে অ্যামাজন প্রকাশ্যেই এআই ব্যবহারের পথে হাঁটছে। এই প্রযুক্তি নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে সাহায্য করবে, যাতে কম খরচে আরও বেশি সিনেমা ও টিভি শো তৈরি করা যায়।

চেং এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘নির্মাণ খরচ এত বেশি যে আরও বেশি শো তৈরি করা বা বড় ঝুঁকি নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আমরা মৌলিকভাবে বিশ্বাস করি যে এআই কাজকে ত্বরান্বিত করতে পারে, কিন্তু এটি মানুষের উদ্ভাবনী শক্তি বা কাজের অনন্য দিকগুলোকে প্রতিস্থাপন করবে না।’

এআই গ্রহণের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এল যখন এমিলি ব্লান্টের মতো শীর্ষ তারকারা এআই-এর উত্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে অ্যামাজন জোর দিয়েছে যে, লেখক, পরিচালক, অভিনেতা এবং ক্যারেক্টার ডিজাইনাররা নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে জড়িত থাকবেন এবং তারা সৃজনশীলতা বৃদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে এআই ব্যবহার করবেন।

অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির মতো অ্যামাজনও তাদের প্রায় সব বিভাগকে এআই ব্যবহারের পথ খুঁজতে উৎসাহিত করছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এআই প্রযুক্তির সাফল্যই ছিল একটি কারণ, যার ফলে গত অক্টোবর থেকে তারা প্রায় ৩০ হাজার করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করেছে—যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই। এর মধ্যে প্রাইম ভিডিও বিভাগেও অনেককে ছাঁটাই করা হয়েছে।

চেং বলেন, বড় পরিসরের সিনেমা ও টিভি প্রযোজনার কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে এআই প্রাইম ভিডিওকে সহায়তা করতে পারে।

অ্যামাজনের এআই স্টুডিও এমন কিছু টুল তৈরি করছে যা বর্তমানে প্রচলিত সাধারণ গ্রাহক-বান্ধব এআই এবং সিনেমা নির্মাণের জন্য পরিচালকদের প্রয়োজনীয় সূক্ষ্ম ও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের মধ্যকার ব্যবধান দূর করবে। আলবার্ট চেং একে ‘দ্য লাস্ট মাইল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—যা সম্ভবত অ্যামাজনের পণ্য সরবরাহ কার্যক্রমের ‘লাস্ট মাইল’ ডেলিভারির প্রতি একটি রসিকতাপূর্ণ ইঙ্গিত।

এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শট বা দৃশ্যে চরিত্রের শারীরিক ও দৃশ্যমান ধারাবাহিকতা উন্নত করা এবং চলচ্চিত্র শিল্পের মানসম্মত অন্যান্য সৃজনশীল টুল বা সফটওয়্যারের সাথে এই প্রযুক্তিকে একীভূত করা।

অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগ (এডাব্লিউএস) এই কাজে সহায়তা করছে। চেং বলেন, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ রক্ষা করা এবং এআই দ্বারা তৈরি কন্টেন্টে যাতে অন্য এআই মডেল বিলীন না হয় তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা বর্তমানে রবার্ট স্ট্রমবার্গ (ম্যালেফিসেন্ট) এবং কুনাল নায়ারের (দ্য বিগ ব্যাং থিওরি) মতো নির্মাতাদের সাথে মিলে নতুন টুলের কার্যকারিতা পরীক্ষা করছে।

গত আগস্টে চালু হওয়া এই স্টুডিও তাদের হিট সিরিজ ‘হাউস অফ ডেভিড’-কে ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারের একটি উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছে।

বাইবেলভিত্তিক এই মহাকাব্যিক সিরিজের দ্বিতীয় সিজনে পরিচালক জন আরউইন লাইভ-অ্যাকশন ফুটেজের সঙ্গে এআই ব্যবহার করে যুদ্ধের দৃশ্য তৈরি করেছেন। এতে কম খরচে বড় পরিসরের দৃশ্য নির্মাণ সম্ভব হয়েছে এবং দুই ধরনের ফুটেজ নিখুঁতভাবে একসঙ্গে সম্পাদনা করা হয়েছে।