ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধের পক্ষে ভোট দিলেন এমপিরা

বিলটি আইনে পরিণত হলে কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরা স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে না।

social_media
Picture: Reuters

ফ্রান্সে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করতে একটি বিল দেশটির জাতীয় পরিষদে পাস হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। খবর বিবিসি’র।

সোমবার নিম্নকক্ষের আইনপ্রণেতারা বিলটির মূল বিষয়গুলোতে একমত হন। পরে ১১৬–২৩ ভোটে বিলটির পক্ষে রায় দেন তারা। অনুমোদনের জন্য এখন এটি উচ্চকক্ষ সেনেটে পাঠানো হবে।

বিলটি আইনে পরিণত হলে কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরা স্ন্যাপচ্যাট, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকের মতো সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবে না।

শিশুদের জন্য সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারে সীমা আরোপের বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ হিসেবেই ফ্রান্স এই উদ্যোগ নিয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর এসব প্ল্যাটফর্মের ক্ষতিকর প্রভাবের প্রমাণ বাড়তে থাকায় বিভিন্ন দেশে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। গত বছরের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়াতেও একই ধরনের একটি আইন পাস হয়েছিল।

সোম থেকে মঙ্গলবার রাতভর চলা অধিবেশনের পর জাতীয় পরিষদে বিলটি পাস হওয়ার ঘটনায় মাখোঁ একে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় তিনি সরকারকে পরবর্তী ধাপগুলো দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান, ‘যাতে আগামী শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা যায়’। ফ্রান্সে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়।

তিনি লেখেন, ‘আমাদের শিশুদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়।’

বিলটির উদ্যোক্তা এমপি লর মিলার ল্য মঁদ পত্রিকাকে বলেন, ‘এই আইনের মাধ্যমে আমরা সমাজে একটি স্পষ্ট সীমারেখা টেনে দিচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব সহজ একটি কথা বলছি—সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলো নিরীহ বা ক্ষতিবিহীন নয়।’

মিলারের ভাষায়, ‘এই নেটওয়ার্কগুলো মানুষকে একত্রিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তারা মানুষকে দূরে ঠেলে দিয়েছে। তারা তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু তথ্যের ভারে আমাদের ডুবিয়ে দিয়েছে। তারা বিনোদনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু মানুষকে বন্দি করে ফেলেছে।’

নতুন খসড়া অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্ষতিকর বলে বিবেচিত সোশ্যাল মিডিয়া নেটওয়ার্কগুলোর একটি তালিকা তৈরি করবে। ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সেগুলো পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হবে।

অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর সাইটগুলোর জন্য একটি আলাদা তালিকা থাকবে। এসব সাইট ব্যবহার করতে হলে বাবা-মায়ের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

আরেকটি ধারায় সিনিয়র স্কুলগুলোতে (লিসে) মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। জুনিয়র ও মিডল স্কুলগুলোতে এই নিষেধাজ্ঞা আগেই কার্যকর রয়েছে।

আইনটি পাস হলে ফ্রান্সকে বয়স যাচাইয়ের একটি পদ্ধতির বিষয়ে একমত হতে হবে। দেশটিতে বর্তমানে ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের অনলাইন পর্নোগ্রাফি দেখার ক্ষেত্রে বয়স প্রমাণের একটি ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

ইউরোপে ডেনমার্ক, গ্রিস, স্পেন ও আয়ারল্যান্ডও অস্ট্রেলিয়ার দৃষ্টান্ত অনুসরণের কথা ভাবছে। এ মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্য সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার বিষয়ে জনমত গ্রহণ শুরু করেছে।

প্রস্তাবিত ফরাসি আইনের ভিত্তি হলো গত বছরের শেষ দিকে লর মিলারের তৈরি করা একটি খসড়া। তিনি টিকটক ও অন্যান্য নেটওয়ার্কের মানসিক প্রভাব নিয়ে তদন্তকারী একটি সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব করেছিলেন।

আলাদাভাবে সরকারকেও নিজস্ব আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, কারণ মাখোঁ তাঁর ক্ষমতার শেষ বছরে বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে ২০২৩ সালের একটি আইনে কিশোর-কিশোরীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালত সেটিকে ইউরোপীয় আইন লঙ্ঘনকারী বলে রায় দেওয়ায় আইনটি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।