IMG-20260716-WA0002

আমি নিকাশ থেকে হাবিব বলছি। আপনাদের কয়েকদিনের ফেসবুকীয় পোস্টাপোস্টি, লাইভ, রিলস, “মেসি এক্সপোজড” টাইপ ভিডিও আর প্রায় ৭২টা স্ক্রিনশট দেখে অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলামঃ মেসিভাইকে নিয়ে আপনারা যেসব গুজব ছড়াচ্ছেন, তার আসল সত্যতা আজ জানাব।

রেডিও ফুর্তির রাসেল ভাইয়ের ভাষায় বলতে হয়, “বিশ্বাস করবেন কিনা, সেটা আপনার ব্যাপার।”

আপনারা হয়তো অনেকেই নিকাশ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের কথা শোনেননি। শোনার কথাও না… এটা সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বানানো হয়নি। আমাদের এখানে ব্যাংক-টু-নিকাশে সুইস ব্যাংক থেকেও কারেন্সি আদান-প্রদান করা যায়। শুধু সুইস ব্যাংকই না, অফশোর, অনশোর, এমনকি একটা “মঙ্গল গ্রহ শাখা”ও আছে।

গত মাসে এক ভদ্রলোক ভুল করে ব্ল্যাকহোল থেকে টাকা পাঠিয়ে ফেলেছিলেন, সেটা এখনও রিফান্ড প্রসেসিংয়ে আছে।আমাদের এখানে মেসিভাইয়েরও অ্যাকাউন্ট আছে। ইনফান্তিনো স্যারও মেসিভাইয়ের অ্যাকাউন্ট খোলার কয়েক দিনের মাথায়ই এখানে অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন, মেসিভাই রেফার করে দিয়েছিলেন।

একটু ভেবে দেখুন, মেসিভাইয়ের মনটা কত বড়! নিজের ভালো অভিজ্ঞতা একা না রেখে ফিফা প্রেসিডেন্টের সাথেও শেয়ার করে দিয়েছেন।চাকরির সুবাদে আজকেই প্রেসিডেন্ট স্যারের সাথে আমার কথা হয়েছিল। স্যার নিজের পিন নাম্বার নিয়ে বড্ড হেলাফেলা করেন, সেটা ঠিক করতে গিয়েই যা কথা হলো।স্যার যা বললেন, শুনলে বিশ্বাস হবে না। সবাই যেমন মেসিভাইকে নিয়ে বলে যে খেলা কিনে নেন উনি, আসলে নাকি এমন কিছুই হয় না।

“আজকালকার ছেলেমেয়েরা মনমতো কিছু না হলেই ডিসকর্ড খুলে সরকার নামিয়ে ফেলতে চায়, আর এখানে তো মাত্র একটা বিশ্বকাপ নিয়ে কথা বলছে। কালকেই দেখলাম একজন চব্বিশ মিনিটের ভিডিও বানিয়ে প্রমাণ করছে চাঁদে আর্জেন্টিনার পতাকা আছে। আরেকজন বলছে, VAR-এর ক্যামেরাম্যান নাকি মেসির স্কুলফ্রেন্ড। মিডিয়া আগুনে ঘি ঢেলে যাচ্ছে।

কী আর করা, বয়সটাই এমন।”আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “স্যার, এই যে এত কথা, এটা তো মূলত হয় আর্জেন্টিনা শেষ দশ-পনেরো মিনিটেই গোল দিয়ে দেয় বলে। আবার কিছু সময় একটু ইয়েও হয়ে যায়।”

“ইয়ে মানে কী? তুমিও কি হারু পার্টি সাপোর্ট করো নাকি?”

“না না, স্যার, আমি ফুটবলের কী বুঝি! একটু উন্মাদনা দেখে নিজেও ভংচং করি, দুই-একটা পোস্ট দিই, এতটুকই।”

“হ্যাঁ, তোমার মতো ইয়াং পোলাপান কম দেখিনি। না বুঝে কথা বোলো না। এই যে এত সুন্দর মাথা দেখছ,” নিজের মাথা দেখিয়ে বললেন, “এটা এত বছর চিন্তা করতে করতে হয়েছে। যা জিজ্ঞেস করার সরাসরি করো।”

“না মানে, আমরা যেমন বোর্ড পরীক্ষায় সৃজনশীলের ১ নম্বরের ঘ আর ৭ নম্বরের ঘ-তে আকাশ-পাতাল তফাত রেখে লিখি, আর্জেন্টিনার খেলাও অনেকটা সেরকমই। পুরো খেলায় তেমন গোল দেখি না, শেষে গিয়ে একসাথে দুই-তিনটা দিয়ে দেয়। মানুষ তো সন্দেহ করে, স্যার। আবার আপনারা নাকি টাকাপয়সাও আদান-প্রদান করেন… সবই শোনা কথা অবশ্য। আমি ছোট মানুষ, এসবে কথা বলার কে আমি?”

এসব শুনে ইনফান্তিনো স্যার একটু বিরক্তই হলেন।

“শোনো, তোমার বয়স কম, তোমাকে ভালো মনে হচ্ছে তাই বলছি। মেসি খেলার আগে আমাকে কোনো টাকাপয়সা পাঠায় না। ওসবের মধ্যে আমি নেই। মাঝেমধ্যে কিছু গিফট পাঠায়, সেটাকেই মানুষ ঘুষ ধরে নেয়। ফ্রেঞ্চ মিডিয়া এত কিছু বলে, তার কি কোনো ভিত্তি আছে? ইজিপ্টের সাথে খেলা নিয়ে এত বাকবিতণ্ডা… কেউ কি ইজিপ্টকে মানা করেছিল আরও গোল করতে? পারেনি, তাই জেতেনি। এত মাথা ঘামানোর কী আছে?”

“কিন্তু স্যার, তাই বলে প্রতি ম্যাচে একটা হিন্দি সিরিয়ালের টুইস্ট থাকবে?”

“আরে বাবা, শোনো, এটা মেসির শেষ বিশ্বকাপ। এখন ও যাই করবে, মানুষ তাতেই বাড়িয়ে বলবে। এত কান দিয়ো না। হায়রে, লাবিব, এভাবে আমার গোটকে সন্দেহ করছ?”

“না না, স্যার, আর আমার নাম তো হাবিব।”

“আরে হ্যাঁ, একই কথা। শোনো, আমার এই অ্যাকাউন্ট তো দেখই, মেসিই বলেছিল এখানে অ্যাকাউন্ট খুলতে যাতে আমাকে গিফট পাঠাতে পারে। এত ভালো একটা মানুষের শেষ বিশ্বকাপটা যেন ভালো যায়, তাই আমিও সবটা দিয়ে চেষ্টা করি। একটু স্ক্রিপ্টেড মনে হতে পারে, কিন্তু নাটকীয়তা না থাকলে থ্রিল আসে না। তাই সব ঠেলতে ঠেলতে খেলা শেষের দিকে একটু গতি পায়, সেটা দেখি।”

“স্যার, একটা কথা বলি? সবাই জানে VAR মানে Video Assistant Referee।”স্যার মুচকি হাসলেন। “এটাই তো মানুষ জানে।””তাহলে আসলটা কী? সবাই কেন এখন এটায় এত সন্দেহ করে?” চারপাশে তাকিয়ে আস্তে করে বললেন, “VAR মানে Very Argentine Resource।”

আমি চেয়ার থেকে প্রায় পড়ে যাচ্ছিলাম।

“হা হা হা, মজা করলাম, বিশ্বাস করলে নাকি? অবশ্য বুদ্ধি থাকলে বুঝে যাওয়ার কথা, পুরোটা কেবলই জোক ছিল না। মেসির প্রতি সম্মান আর ভালোবাসা থেকেই এতকিছু করি আমি।”

“আয়হায়, স্যার, আপনি তো সেরা মানুষ, গোটের জন্য এত ভালোবাসা!”

“আরে না না, কী যে বলো। দুনিয়াতে আছিই আর কয়দিন, এরকম উপকার না করলে হয়? আর শুধু আমার মাথা থেকেই সব বুদ্ধি বের হয় তা না, মেসিও মাঝেমধ্যে তার স্বপ্নে দেখা ম্যাচের কথা বলেঃ কীভাবে একা পায়ে গোল করে ফেলে, কীভাবে আর্জেন্টিনা পইপই করে এগিয়ে যায়। শুনতে ভালোই লাগে। বাকি টিমগুলোর ম্যাচেও একটু থ্রিল রাখার চেষ্টা করি। আশি মিনিটের পর হঠাৎ আর্জেন্টিনা জেগে ওঠে না? ওটা আমরা করি না, ওরা নিজেরাই করে। শুধু হালকা কড়ি কাঠি নাড়ানো লাগে আরকি, বড়রা তো ছোটদের সাহায্য করবেই, তাই না?”

“স্যার, অতিরিক্ত সময় এত বেশি কেন দেন?”

“ওটা একদম সায়েন্টিফিক। যতক্ষণ পর্যন্ত ধারাভাষ্যকারের গলা বসে না যায়, ততক্ষণ। আর মানুষ বলে আপনি ম্যাচ রিগ করেন, কন্ট্রোল করেন। একটু কর্টিসলের খেলা না থাকলে চলে? এটাকে বলে মিউচুয়ালিজম।”

“তো ভাই, আজকের প্ল্যানের অবস্থা কী? মিউচুয়ালিজমের? আমি কি মীর জাফর হব, নাকি চোখ বুজে দেখা গোটের স্বপ্ন বিশ্বাস করে পোস্ট দিয়ে দেব কয়েকটা? আমার ফেসবুকে রিচ কমে গেছে, একটু অথেনটিক ইনফো লাগবে।”

“নাহ, তোমাদের কথা শুনে মনটাই খারাপ হয়ে গেল। আজ আমার কোনো প্ল্যান নেই। আমার অ্যাকাউন্টটা ঠিক করে দাও, আমি গিয়ে আমাকে নিয়ে বানানো নতুন গান ‘টুডে আই ফিল রিচ’ শুনি।”

“সরি, স্যার, কষ্ট দিতে চাইনি।””নাহ, লাবিব, ঠিক আছে। আজ মানুষ বুঝবে না, কিন্তু ইতিহাস ঠিকই আমাকে মনে রাখবে।”

“জি স্যার, কিন্তু আমার নাম হাবিব, আর আপনার অ্যাকাউন্টে এইমাত্র বিশাল অঙ্কের টাকা ঢুকল।”

“তাই নাকি? রেফারেন্সে কিছু আছে?””হ্যাঁ, লেখাঃ ‘Referral Bonus Successful.’ নিচে আরেক লাইন… ‘কইতে থাক, হুনতাসি।’ মেসিভাইয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে এত বড় গিফট?”

“এহহে, মানা করলাম ছেলেটাকে। আচ্ছা যাই হোক, মন ভালো হয়ে গেলো, অনেকদিন পর মন খুলে কারো সাথে কথা বললাম। যাই, এবার একটু প্ল্যান করি, নাহলে খেলায় “থ্রিল” আসবে না।”

“কিন্তু স্যার, আজকে না কোন প্ল্যান করবেন না?”স্যার মৃদু হেসে নিজের মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন, “কইতে থাক, হুনতাসি।”