৪৬ বছর পর বিদায় নিচ্ছেন হ্যালো কিটির ডিজাইনার

ইউকো ইয়ামাগুচি ১৯৮০ সালে চরিত্রটির ডিজাইনের দায়িত্ব নেন। হ্যালো কিটি চালুর পাঁচ বছর পর তিনি এই দায়িত্বে আসেন।

hellokitty
হ্যালো কিটি জাপানে শুরু থেকেই জনপ্রিয় ছিল। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ৪৬ বছর পর সরে দাঁড়াচ্ছেন হ্যালো কিটির ডিজাইনার। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি বিড়াল সদৃশ এই চরিত্রটিকে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছেন।

ইউকো ইয়ামাগুচি ১৯৮০ সালে চরিত্রটির ডিজাইনের দায়িত্ব নেন। হ্যালো কিটি চালুর পাঁচ বছর পর তিনি এই দায়িত্বে আসেন। মজার বিষয় হলো, হ্যালো কিটি আসলে বিড়াল নয়। সে লন্ডনের এক ছোট মেয়ে।

হ্যালো কিটি জাপানে শুরু থেকেই জনপ্রিয় ছিল। কিন্তু ইয়ামাগুচির চার দশকের জাদুতে এটি বিশ্বের অন্যতম লাভজনক ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হয়েছে।

হ্যালো কিটির মূল প্রতিষ্ঠান সানরিও জানিয়েছে, ইয়ামাগুচি ‘পরবর্তী প্রজন্মের হাতে ব্যাটন তুলে দিয়েছেন’। তার কাজের জন্য তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে।

জাপানি ‘কাওয়াই’ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে হ্যালো কিটির যাত্রা শুরু হয়। এই অতি-নারীসুলভ ও বালিকা-সুলভ নান্দনিকতা এখন বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়।

ইয়ামাগুচি নিজেও জনসমক্ষে প্রায়ই কিটি-স্টাইলের পোশাক পরতেন। তিনি চুলে উঁচু খোঁপা করতে পছন্দ করতেন।

সানরিও তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, ডিজাইনারের বয়স এখন ৭০ বছর। তিনি ‘হ্যালো কিটিকে সবার প্রিয় চরিত্রে পরিণত করেছেন’।

কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের আরেক ডিজাইনার ইয়ামাগুচির উত্তরসূরি হবেন। তিনি ‘আয়া’ ছদ্মনামে পরিচিত। তিনি ইতিমধ্যে ইয়ামাগুচির সঙ্গে কাজ করছিলেন। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তিনি পুরোপুরি দায়িত্ব নেবেন।

হ্যালো কিটির ডিজাইনার ইউকো ইয়ামাগুচি। ছবি: সংগৃহীত

তবে ইয়ামাগুচি একেবারে হারিয়ে যাচ্ছেন না। তিনি পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়ার জন্য সানরিওতেই থাকবেন।

হ্যালো কিটি চরিত্রটি ১৯৮০ সালে প্রথম একটি কয়েন পার্সে দেখা গিয়েছিল। এরপর এটি বিশ্বব্যাপী বিপণনের এক বিস্ময় হয়ে ওঠে।

জামাকাপড়, সাজসজ্জার অনুষঙ্গ, ভিডিও গেমস থেকে শুরু করে এয়ারবাস বিমানেও জায়গা করে নিয়েছে হ্যালো কিটি। ইউনিসেফ, নিনটেন্ডো এবং ব্যালেন্সিয়াগার মতো ব্র্যান্ডের সঙ্গে এর অংশীদারিত্ব রয়েছে। মেসিস থ্যাঙ্কসগিভিং প্যারেডেও তাকে বিশাল বেলুন বা ফ্লোট হিসেবে দেখা গেছে।

বিশ্বজুড়ে হ্যালো কিটি ক্যাফে এবং জাপানে একটি থিম পার্ক রয়েছে। চীনেও আরেকটি পার্ক খোলার কথা রয়েছে।

পোকেমনের মতো অন্যান্য জাপানি চরিত্রের তুলনায় হ্যালো কিটির তেমন কোনো পেছনের গল্প নেই। সানরিও বলেছে, সে ‘মানুষ নয়, তবে পুরোপুরি বিড়ালও নয়’।

সানরিও’র তথ্যমতে, তার জন্ম লন্ডনে। তার মিমি নামে এক যমজ বোন এবং ডিয়ার ড্যানিয়েল নামে এক বন্ধু বা বয়ফ্রেন্ড আছে।

২০২৮ সালে ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হবে কিটির। সে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি অ্যানিমেটেড সিরিজে হাজির হয়েছে। তবে সে কখনো কথা বলেনি। কারণ তার কোনো মুখ নেই।