প্রিন্স: টেকনিক্যাল দুর্বলতায় থমকে যাওয়া গল্প
বাংলা সিনেমা প্রেমীদের কাছে ঈদ মানেই আনন্দ, উল্লাস, প্রত্যাশা, উদ্দীপনার এক মৌসুম। প্রতি ঈদ এই প্রযোজকরা সিনেমা নির্মাণ করে যা প্রকাশ পেলে প্রত্যাশার জোয়ার বয়ে যায়। প্রতিবারই নতুন কিছুর আশায় থাকেন দর্শকরা।
প্রিন্স: টেকনিক্যাল দুর্বলতায় থমকে যাওয়া গল্প
বাংলা সিনেমা প্রেমীদের কাছে ঈদ মানেই আনন্দ, উল্লাস, প্রত্যাশা, উদ্দীপনার এক মৌসুম। প্রতি ঈদ এই প্রযোজকরা সিনেমা নির্মাণ করে যা প্রকাশ পেলে প্রত্যাশার জোয়ার বয়ে যায়। প্রতিবারই নতুন কিছুর আশায় থাকেন দর্শকরা।
প্রতি ঈদের ন্যায় এবারো আবু হায়াৎ মাহমুদ রচিত Prince: Once Upon a Time in Dhaka মুক্তি পায় যেখানে মূল অভিনেতা হিসেবে কাস্ট করা হয় সাকিব খানকে। নামটা শুনলেই দর্শকদের মনে প্রত্যাশার আলো জাগালেও এবার হতাশা সৃষ্টি করেছে। দুর্দান্ত শুরু দিয়ে অসমাপ্ত এক যাত্রার অপর নাম প্রিন্স।
ঈদের পরের দিন ১২:৩০ শো-টাইমে রাজশাহীর GRV Cineplex এ আমরা চার জন যায় এই সিনেমা দেখতে। সচারচর দেশে নির্মিত অ্যাকশান সিনেমা দেখা হয়না তবে এবার পরিবেশ, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সবাই মিলে দেখা। ১২:৩০’এ শুরু হওয়ার কথা হলেও তা শুরু হয় ১২:৪৫ ‘এ
খয়রি, সোনালি, লালচে-কালো পোস্টারের মতন আকর্ষণী একটি শুরু। ৯০ এর দশকের ঢাকার অপরাধজগতের পটভূমিকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা হয় এই সিনেমা। শাকিব খান “প্রিন্স” চরিত্রে অভিনয় করেছেন একজন মানুষ, যে নির্মম শহরে নিজের অবস্থান তৈরি করতে প্রতিনিয়ত লড়ায় করে যাচ্ছে।
ছবির প্রথমার্ধে আকর্ষণীয় গল্পের ভিত্তি তৈরি হয়, অনেক জায়গায় প্লট সহজেই প্রেডিক্ট করা যায় কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে এসে পুরো গল্পের শক্তি হারিয়ে যায়। গল্প উদ্দেশ্যহীনভাবে এগোতে থাকে। সিনেমায় সারপ্রাইজ ফ্যাক্টর নেই বললেই চলে। ৯০ দশকের পরিবেশ, পরিস্থিতি, বিচরণ, অবয়ব সবকিছু বিবেচনা করলে পুরো সেট স্রেফ কৃত্তিম লাগে, রিয়ালিস্টিক মনে হয়না।
ট্রেইলারে টেকনিক্যাল, VFX নিয়ে বেশ আলোচনা হলে পরবর্তীতে তা পুনরায় সংশোধন করা হয়। তবুও বেশ দুর্বলতা রয়ে গেছে। এডিটিংএ মনোযোগ এর ঘাটতি সুস্পষ্ট। পেসিং স্মুথ এর বেশ কমতি আছে।
বিরতির সময় অনেক দর্শক চলেও গিয়েছিল। শুরু তে হাউজফুল থাকলেও বিরতির সময় এবং বিরতি পরবর্তী সময় হাউজএম্পটির এক বিরল দৃশ্য দেখা যায়। সিনেপ্লেক্সে এখনও মুক্তি না পাওয়ার কারণ স্পষ্ট !
সিনেমার ভালো দিকও আছে। শাকিব খানের উপস্থিতি সকলের নজর কাড়ে। সাউন্ডট্র্যাক ছবির উজ্জ্বল দিক। সিনেমার চেয়ে বেশি সফল সাউন্ডট্র্যাক! দিব্যেন্দু ভট্টাচার্য তার চরিত্রে ইন্টেন্সিটি প্রকাশ করতে সফল। সিনেমেটোগ্রাফি খারাপ না আবার খুব ভালো মানেরও না, চলে আর কি!
অভিনয়ে কোন কম্প্রোমাইজ নেয়। সকলেই চেষ্টা করেছে সবটুকু দেওয়ার। এতেই বোঝা যায় টেকনিক্যাল দিকই সিনেমার ব্যর্থতার মূল কারণ।
নির্মাতা চেষ্টা করেছে মিশ্র একটি অনুভূতি দিতে, নতুন অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করতে। পরিকল্পনা সুন্দর হলে সম্পূর্ণ ইমপ্যাক্ট ফেলতে পারেনি ‘প্রিন্স’। এক্সেকিউশনে আরও কাজ করা দরকার ছিল। ভালো কিছু মুহূর্ত আছে, কিন্তু দুর্বলতার ছায়ায় ঢাকা পরে গেছে।
ইমোশনাল গভীরতা না থাকার কারণে অনেক জায়গায় দর্শক সেই অনুভূতি বুঝেই উঠতে পারিনি। পুরো হল যেন জড় করে সিনেমা দেখছে। আবার কিছু কিছু দর্শক আছে, খুব আনন্দের সাথে দেখছিল। ভক্ত বলে কথা।
বনলতা এক্সপ্রেস যেমন না দেখলে বড় কিছু মিস করবেন, প্রিন্সের ক্ষেত্রে তা নয়। না দেখলে বড় কিছু মিস করবেন না। তবে হালকা বিনোদনের জন্য একবার দেখতে পারেন। সবমিলিয়ে আমার কাছে পার্সোনাল রেটিং এর বার জানতে চাইলে তার উত্তর ৫.৫/১০।