বুলিং ঠেকাতে ৯ বছর বয়সিদেরও বেত মারার অনুমতি পেলেন সিঙ্গাপুরের শিক্ষকেরা
ডেসমন্ড লির দাবি, এই পদ্ধতি বুলিং কমাতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, যখন সুস্পষ্ট নিয়ম থাকে এবং তা ভঙ্গের জন্য কড়া ও কার্যকর শাস্তি থাকে, তখন শিশু-কিশোরেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।’
বুলিং ঠেকাতে ৯ বছর বয়সিদেরও বেত মারার অনুমতি পেলেন সিঙ্গাপুরের শিক্ষকেরা
ডেসমন্ড লির দাবি, এই পদ্ধতি বুলিং কমাতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, যখন সুস্পষ্ট নিয়ম থাকে এবং তা ভঙ্গের জন্য কড়া ও কার্যকর শাস্তি থাকে, তখন শিশু-কিশোরেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।’
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে অবাধ্য শিক্ষার্থীদের শাসন করতে শিক্ষকেরা বেত ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানিয়েছেন সিঙ্গাপুরের শিক্ষামন্ত্রী ডেসমন্ড লি। গত ১৫ এপ্রিল স্কুলে বুলিং (নির্যাতন বা হয়রানি) ঠেকাতে নতুন কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিল সিঙ্গাপুর প্রশাসন।
৯ বছর বয়সী শিশুদের বেত্রাঘাত করলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব পড়বে—এমন একটি প্রশ্ন ওঠে মঙ্গলবার দেশটির পার্লামেন্টে। এর জবাবে লি বলেন, ‘অপরাধের মাত্রা বিবেচনা করে যখন অন্য সব পদক্ষেপ কাজে আসে না, তখনই আমাদের স্কুলগুলো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে বেত ব্যবহার করে।’
নতুন এই নিয়ম ২০২৭ সাল থেকে সিঙ্গাপুরের সব স্কুলে কার্যকর হবে। শিক্ষামন্ত্রী আইনপ্রণেতাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর প্রটোকল বা নিয়ম মানা হয়। উদাহরণস্বরূপ, বেত্রাঘাতের আগে অবশ্যই প্রধান শিক্ষকের অনুমোদন নিতে হবে এবং কেবল নির্দিষ্ট শিক্ষকেরাই এই শাস্তি দিতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘শাস্তি দেওয়ার আগে স্কুলগুলো শিক্ষার্থীর মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনা করবে। এই শাস্তি শিক্ষার্থীকে তার ভুল থেকে শিক্ষা নিতে এবং অপরাধের গুরুত্ব বুঝতে সাহায্য করবে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হবে।’
ডেসমন্ড লির দাবি, এই পদ্ধতি বুলিং কমাতে সাহায্য করবে। তিনি বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, যখন সুস্পষ্ট নিয়ম থাকে এবং তা ভঙ্গের জন্য কড়া ও কার্যকর শাস্তি থাকে, তখন শিশু-কিশোরেরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে শেখে।’
সিঙ্গাপুরের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, কেবল ছেলে শিক্ষার্থীদেরই বেত দিয়ে শাস্তি দেওয়া যাবে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘কেবল ছেলেদের জন্য শাস্তির একটি বিকল্প হলো বেত্রাঘাত। এটি অত্যন্ত গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এবং একেবারেই বাধ্য হলে সর্বশেষ উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হবে।’
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বেগ
সাম্প্রতিক দশকগুলোতে বিশ্বের অনেক দেশেই স্কুলে শারীরিক শাস্তির হার বেশ কমে এসেছে।
তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এখনো এক-চতুর্থাংশ থেকে অর্ধেক শিশু স্কুলে শারীরিক শাস্তির শিকার হয়। সংস্থাটি এই প্রথা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
২০২৫ সালের আগস্টে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ডব্লিউএইচও জানায়, ‘শিশুদের শারীরিক শাস্তির প্রভাব সারা জীবন থাকতে পারে। এটি তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক ও পেশাগত জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।’
সংস্থাটি আরও জানায়, ‘এখন অনেক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে যে শিশুদের শারীরিক শাস্তি দিলে তাদের নানা ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি থাকে এবং এর ফলে শিশু, বাবা-মা বা সমাজের কোনো উপকারই হয় না।’