নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই: শিক্ষামন্ত্রী

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত যেসব মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল, সেগুলো আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। আজও একটি মামলার শুনানি হচ্ছে।

milon_

সরকারের প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং একটি আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা উল্লেখ করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, “নকল নামক জিনিসটি বাংলাদেশে আর নেই। শিক্ষকদের কী কী সুবিধা-অসুবিধা রয়েছে, কোন কোন কারণে শিক্ষার মান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেসব বিষয় চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি।”

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে একই প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, প্রতিটি বোর্ডে আলাদা প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয় কেন। তারা বলেছিলেন, কোনো একটি বোর্ডের প্রশ্ন ফাঁস হলে অন্য বোর্ডগুলো অন্তত সুরক্ষিত থাকবে। এ কথা শুনে আমি অবাক হয়েছি। প্রশ্ন ফাঁস হতে দেওয়া হবে না। কেউ এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। প্রশ্ন ফাঁসে জড়িতদের এমন শাস্তি দেওয়া হবে, তারা সারাজীবন বাংলাদেশকে মনে রাখবে।”

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত যেসব মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে ছিল, সেগুলো আদালত বিবেচনায় নিয়েছেন। আজও একটি মামলার শুনানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, “আগামীর সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কাজ করা হচ্ছে। সব পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল দুই মাসের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। ফল প্রকাশের পর দ্রুত ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কোনো সেশনজট থাকবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জোর করে ক্ষমতায় থাকতে চাই না। যতদিন দায়িত্বে থাকব, সিংহের মতো থাকব। বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে ছাড়ব, ইনশাআল্লাহ।”

উচ্চশিক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “চার বছরের কোর্স চার বছরেই শেষ করতে হবে। কোনো সেশনজট থাকবে না। সরকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে দায়িত্ব পালনের জন্য। কেউ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে না পারলে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াবেন। শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা থাকতে দেওয়া হবে না।”

সভায় জানানো হয়, বরিশাল বিভাগের ১৫০টি কেন্দ্রে ৬০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরীক্ষা সুষ্ঠু, নকলমুক্ত ও প্রশ্নফাঁসমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু, বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, রেঞ্জ ডিআইজি মোস্তাফিজুর রহমান, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান।