শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে আগ্রহী করতে ‘এসটিইএম’ ল্যাব চালুর পরিকল্পনা সরকারের

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

bobby

প্রাথমিক স্তর থেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (এসটিইএম) শিক্ষার প্রতি শিশুদের আগ্রহ তৈরি করতে দেশজুড়ে প্লে ল্যাব ও এসটিইএম ল্যাব চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, আগামী বাংলাদেশের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এসটিইএম–ভিত্তিক শিক্ষার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে কার্যকর মডেল পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসটিইএম ল্যাব চালু করতে চায় সরকার।

আজ সোমবার (১৩ জুলাই) রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ব্র্যাক ও লেগো ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সাসটেইনিং প্লে, লার্নিং অ্যান্ড স্কিলস ইন হিউম্যানিটারিয়ান কনটেক্সটস (স্প্ল্যাশ)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘বর্তমানে সরকারের নির্ধারিত শিক্ষাগত মান অনুযায়ী পঞ্চম শ্রেণির প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী মাতৃভাষায় কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না। গণিতে এই হার আরও কম, আর ইংরেজিতে পরিস্থিতি আরও দুর্বল। এই বাস্তবতায় প্রাথমিক শিক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রয়োজন রয়েছে।’

তিনি জানান, সরকার এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শিক্ষার ধারা ভিন্ন হলেও ন্যূনতম মান সবার জন্য একই হবে। ইংরেজি মাধ্যম, বাংলা মাধ্যম, সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, ইবতেদায়ী, কওমি কিংবা হাফিজি মাদ্রাসা—সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শিক্ষক, পাঠ্যক্রম, অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীর শেখার ফলাফলের একটি অভিন্ন ন্যূনতম মান নির্ধারণ করা হবে।

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার বর্তমানে ব্র্যাকের প্লে ল্যাব ও এসটিইএম ল্যাব মডেল পর্যালোচনা করছে। শিগগিরই কয়েকশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সেটি সফল হলে দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে প্লে ল্যাব ও এসটিইএম ল্যাব স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরবর্তীতে বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের ল্যাব স্থাপন বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগামী বাংলাদেশ গড়ার জন্য এসটিইএম–ভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। প্রাথমিক পর্যায়ে আমরা সামগ্রিক ভিত্তিমূলক শিক্ষা দিই। তবে আমরা চাই, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান ও এসটিইএম বিষয়ে ভালোবাসা এবং আগ্রহ তৈরি হোক, যাতে তারা মাধ্যমিকে গিয়ে গণিত বা বিজ্ঞানকে ভয় না পায়।’

ববি হাজ্জাজ জানান, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান থেকে সরঞ্জাম সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজন হলে স্থানীয় শিল্পের মাধ্যমে এসব শিক্ষা উপকরণ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে একদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে দেশের স্থানীয় শিল্প ও অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, চলতি মাস থেকেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, ব্যাগ ও জুতা বিতরণের পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে। সরকারের এসব বৃহৎ কর্মসূচি দেশের পোশাক ও জুতা শিল্পসহ বিভিন্ন স্থানীয় শিল্পখাতকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।