2026-08-07t035917z_453101551_rc2ftmaj1g4i_rtrmadp_3_thailand-shooting-1786075370
ছবি: রয়টার্স

থাইল্যান্ডের নন্থাবুরি প্রদেশের ব্যাং ক্রুয়াই জেলায় একটি স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনায় মোট আটজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, স্কুলেরই নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী প্রথমে নিজের বাড়িতে তার দাদার লাইসেন্সকৃত বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে নিজের দাদা-দাদিকে গুলি করে হত্যা করে। এরপর ব্যাংককের উপকণ্ঠে অবস্থিত ‘দেবসিরিন নন্থাবুরি’ স্কুলে গিয়ে আরও তিন শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা করে। এই হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

নন্থাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেচরাপি কংদি জানান, হামলার পর সন্দেহভাজন ওই শিক্ষার্থী নিজেও আত্মহত্যা করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলাকারী মোট ২৬ রাউন্ড গুলি ছুড়েছিল এবং ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আরও ৩৪ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করেছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেচরাপি কংদি বিবিসিকে জানান, সন্দেহভাজন ওই শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে পড়ত। থাইল্যান্ডে নবম শ্রেণিতে সাধারণত ১৪ বছর বয়সি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।

এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছে, স্কুলে গুলির শব্দ প্রথমে তার কাছে আতশবাজি ফোটার শব্দ বা কেউ জোরে কিছু আঘাত করার মতো মনে হয়েছিল।

সে বলে, ‘প্রথমে আমি বুঝতেই পারিনি যে এটা গুলির শব্দ। অনেকগুলো গুলির শব্দ হচ্ছিল—ঠাস, ঠাস, ঠাস। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর আবার শুরু হলো।’

গুলির ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের স্কুল থেকে দৌড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। এদিকে, স্কুলের বাইরে অপেক্ষমাণ শিক্ষক ও কর্মীদের অনেককেই স্পষ্টভাবে শোকাহত ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা গেছে।

হামলার প্রায় এক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা গেছে, মানুষ স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে একে অপরকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন এবং পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকর্মীরা স্কুলের ভেতরে কাজ করছেন। পরবর্তীতে স্কুল ভবনটি সুরক্ষিত করা হলেও কর্মকর্তারা হামলাকারীর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রকাশ্যে কোনো তথ্য জানাননি।

এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের জানান, অন্য একটি ভবন থেকে গুলির শব্দ শোনার পর শিক্ষার্থীরা একটি ক্লাসরুমের ভেতরে লুকিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে পুলিশ কর্মকর্তারা দরজায় নক করে তাদের আশ্বস্ত করেন এবং নিরাপদে ভবন থেকে বের হওয়ার পথ করে দেন।

জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলটিতে প্রায় ৩,১০০ জন শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন।

ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যালয়টি থাই রাজপরিবার কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ‘দেবসিরিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’ নেটওয়ার্কের অন্যতম একটি অংশ। এই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী, খ্যাতনামা পণ্ডিত এবং লেখকেরা রয়েছেন।

চলতি বছরে থাইল্যান্ডে এটি দ্বিতীয় স্কুলে বন্দুক হামলার ঘটনা। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের একটি স্কুলে একই ধরনের হামলায় একজন শিক্ষক নিহত এবং এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছিল।