মনের দিনলিপি (পর্ব ১)
মনের দিনলিপি (পর্ব ১)
গভীর রাত। চারপাশে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। ঘরের আলো নিভিয়ে শুয়ে আছি কিন্তু আমার চোখে ঘুম নেই। বাইরে সবকিছু শান্ত অথচ আমার মাথার ভেতরে কিসের জানি ঝড় চলছে। একটার পর একটা প্রশ্ন আসছে।
“মাথাটা এমন ভার লাগছে কেন?”
কিছুক্ষণ পর,
“কিছু একটা হচ্ছে না তো?”
তারপর সেই ভয়টা।
“যদি স্ট্রোক হয়?”
আমি জানি না ঠিক কখন থেকে আমার নিজের শরীরটা আমার কাছে এতটা অপরিচিত হয়ে গেল। আগে শরীরে কোনো অস্বস্তি হলে হয়তো একটু পরেই ভুলে যেতাম। এখন একটা ছোট্ট অনুভূতিও আমার কাছে একটা পর্যবেক্ষণের বিষয়।
মাথা ভার লাগছে কেন? হাতটা এমন লাগছে কেন? কথা বলতে গিয়ে ওই শব্দটা মনে পড়তে একটু সময় লাগল কেন? হাঁটার সময় এক মুহূর্ত ভারসাম্য অদ্ভুত লাগল কেন? প্রতিটা প্রশ্নের শেষে গিয়ে একই জায়গায় পৌঁছাতাম,
“কিছু একটা ভয়ংকর হচ্ছে না তো?”
এভাবেই শুরু হয়েছিল আমার হেলথ এনজাইটির গল্প।
শুরুটা ছিল হার্ট দিয়ে। প্রথমে আমার ভয় ছিল হার্ট আট্যাক নিয়ে। শরীরে সামান্য কিছু অনুভব হলেই মনে হতো, “এটা কি হার্টের কোনো সমস্যা?” তারপর শুরু হলো খোঁজা । নিজের হৃদস্পন্দন খেয়াল করা, শরীরের অনুভূতি লক্ষ্য করা, লক্ষণ খোঁজা, গুগল করা। একসময় মনে হলো, এই ভয়টা আর নিজের মধ্যে রেখে লাভ নেই। আমি একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে গেলাম। ইসিজি হলো। ইকোকার্ডিওগ্রাম হলো। ব্লাড প্রেসার মাপা হলো। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল। ডাক্তার আমাকে আশ্বস্ত করলেন যে আমার হার্ট সম্পূর্ণ হেলদি। সেদিন মনে হয়েছিল,
“এই তো, এবার নিশ্চিন্ত।”
কিন্তু আমি তখনও জানতাম না, হেলথ এনজাইটি একটা ভয় শেষ হলে আরেকটা ভয় তৈরি করতে পারে।
হার্টের ভয়টা একটু কমতেই আমার মস্তিষ্ক যেন নতুন একটা দরজা খুলে দিল। এবার সেই দরজার ওপারে ছিল, স্ট্রোক।
মাথা ভার লাগল।
“স্ট্রোক?”
হাত কয়েক মিনিট অদ্ভুত লাগল।
“মিনি স্ট্রোক?”
কথা বলতে গিয়ে একটা শব্দ মনে করতে একটু সময় লাগল।
“নিউরোলজিকাল সমস্যা?”
হাঁটার সময় এক মুহূর্ত ভারসাম্য অদ্ভুত লাগল।
“টিআইএ নয় তো?”
কখনো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে হাসতাম।
তারপর নিজের মুখের দুই পাশ দেখতাম।
“দুই পাশ ঠিক আছে তো?”
কখনো দুই হাত সামনে বাড়িয়ে দেখতাম।
“দুটো হাত একইভাবে উঠছে তো?”
কখনো নিজের হাতের শক্তি পরীক্ষা করতাম।
“ডান হাতটা কি বাম হাতের চেয়ে দুর্বল?”
আমি বুঝতেই পারিনি কখন নিজের শরীরের একজন মানুষ থেকে নিজের শরীরের একজন গোয়েন্দা হয়ে গেলাম।
একটা অনুভূতি আসত। আমি সেটা পর্যবেক্ষণ করতাম। তারপর বিশ্লেষণ করতাম। তারপর Google করতাম। তারপর worst-case scenario খুঁজে বের করতাম। তারপর ভয় পেতাম। আর ভয় পাওয়ার পর শরীরে আরও অনুভূতি তৈরি হতো। আবার সেগুলো পরীক্ষা করতাম। আবার ভয়। মনে একটা ভয়ের চক্রে আটকে গেলো।
ভয় → অনুভূতি → খোঁজা → আরো ভয় → আরো অনুভূতি
দিনের পর দিন। কিন্তু হেলথ এনজাইটি আসলে কী?
এই জায়গায় এসে একটা বিষয় বোঝা দরকার। হেলথ এনজাইটি হলো এমন একটি অবস্থা, যেখানে একজন মানুষ নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করতে থাকে। শরীরে স্বাভাবিক বা সামান্য কোনো অনভূতি হলেও সেটাকে গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ হিসেবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা তৈরি হতে পারে।
সহজ ভাষায়, শরীরে যা ঘটছে, তার চেয়ে তার অর্থ কী হতে পারে, সেই চিন্তাটাই অনেক বড় হয়ে যায়।
একটা সাধারণ মাথাব্যথা হয়তো শুধুই মাথাব্যাথা। কিন্তু হেলথ এনজাইটি তে মস্তিষ্ক প্রশ্ন করতে পারে,
“ব্রেইন টিউমর নয় তো?”
একটু হার্টবিট বেড়ে গেল,
“হার্ট এট্যাক?”
হাত একটু অদ্ভুত লাগল,
“স্ট্রোক?”
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। অনুভূতিটা মিথ্যা নয়। অনুভূতিটা সত্যিই হতে পারে। কিন্তু সেই তার ব্যাখ্যাটা এনজাইটির কারণে অতিরঞ্জিত বা বিপর্যয়কর হয়ে যেতে পারে।
সাইকোলজি নিয়ে পড়তে ও বুঝতে গিয়ে একটা শব্দ আমার নিজের অভিজ্ঞতার সঙ্গে খুব মিলে যায়, বিপর্যয়মূলক চিন্তা. এটা এমন এক ধরনের চিন্তার ধরণ যেখানে কোনো ঘটনা বা অনুভূতির সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপ পরিণতিকে অতিরঞ্জিত করে দেখা হয়।
ধরো, মাথা একটু ভার লাগল। একজন মানুষ ভাবতে পারে, “হয়তো আমি ক্লান্ত।” কিন্তু বিপর্যয়মূল চিন্তা শুরু হলে চিন্তার রাস্তা হতে পারে,
“মাথা ভার → মস্তিষ্কের সমস্যা → স্ট্রোক → ভয়াবহ ক্ষতি → মৃত্যু।”
একটা অনুভূতি। কিন্তু তার ওপর তৈরি হয়ে গেল একটা সম্পূর্ণ ভয়ের গল্প। আমি নিজের মধ্যে এই প্যাটার্ন অনেকবার দেখতে শুরু করলাম। তারপর শুরু হলো নিশ্চয়তা খোঁজা। ভয় কমানোর জন্য আমি বারবার নিশ্চয়তা খুঁজতাম। নিজেকে পরীক্ষা করতাম। গুগল করতাম। অন্যের কাছে জিজ্ঞেস করতাম। একটু নিশ্চিন্ত হতাম। কিন্তু সেই নিশ্চিন্ততা বেশিক্ষণ থাকত না। আবার একটা অনুভূতি। আবার খোঁজা। আবার মিলিয়ে দেখা।
এখানে সাইকোলজির আরেকটা বিষয় বুঝতে শুরু করলাম, রিএজুরান্স অর্থাৎ ভয় বা অনিশ্চয়তা কমানোর জন্য বারবার নিশ্চয়তা খোঁজা। সমস্যা হলো, রিএজুরান্স, অনেক সময় সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু বারবার রিএজুরান্সের ওপর নির্ভর করলে মস্তিষ্ক শিখে যেতে পারে,
“ভয় কমাতে আমাকে আবার খোঁজ করতে হবে।”
ফলে চক্রটা ভাঙার বদলে কখনো কখনো আরও শক্ত হতে পারে।
সবচেয়ে কঠিন বিষয়টা ছিল, সবকিছুই সত্যি মনে হতো। হেলথ এনজাইটি নিয়ে একটা বিষয় বাইরে থেকে বোঝা কঠিন। এটা এমন নয় যে আমি ইচ্ছা করে ভয় পাচ্ছিলাম। আমার মাথা ভার লাগত সত্যিই। শরীর দুর্বল মনে হতো সত্যিই। কখনো মাথায় চাপ অনুভূত হতো। কখনো খুব অল্প সময়ের জন্য মাথা ব্যাথা হতো। কখনো কোনো শব্দ মনে করতে কয়েক সেকেন্ড সময় লাগত। কখনো ক্লান্ত লাগত। কখনো নিজের শরীরের কোনো নড়াচড়া নিয়েও সন্দেহ হতো। অনুভূতিগুলো কাল্পনিক মনে হতো না।
অনুভূতিগুলো বাস্তব কিন্তু আমি তা যেভাবে ভাবতাম তা সবসময় লজিকাল ছিল না। আর এখানেই এনজাইটির একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। মস্তিষ্ক ও শরীর আলাদা দুটি পৃথিবী নয়। স্ট্রেস এবং এনজাইট শরীরেও বিভিন্ন শারীরিক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, মাংশপেশির টান ধরা, মাথা ঘোরা বা মাথা ভারী মনে হওয়া, ঘাম, কাঁপুনি, শ্বাসের পরিবর্তন, পাকস্থলীতে অস্বস্তিকর অনুভূতি কিংবা মনোযোগের সমস্যা হতে পারে।
তাই এনজাইটির শারীরিক প্রতিক্রিয়া গুলো কিন্তু বাস্তব শারীরিক অনুভূতি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্রতিটি অনুভূতি এনজাইটি থেকেই হচ্ছে। এবং ঠিক একইভাবে, এনজাইই আছে বলেই নতুন বা গুরুতর শারীরিক লক্ষণকে কখনো উপেক্ষা করা উচিত নয়।
এই ভারসাম্যটাই গুরুত্বপূর্ণ।
তারপর আমাকে নিজের ভেতরের একটা স্টেরিওটাইপ ভাঙতে হয়েছিল। একসময় বুঝলাম, শুধু বারবার রিএজুরেন্স খুঁজে বেড়ালে এই চক্রশেষ হবে না। আমাকে আমার চিন্তার সঙ্গেও কাজ করতে হবে। কিন্তু এখানেই একটা বাধা ছিল।
সাইকোলজিস্টের কাছে যাব?
আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনও অনেক ভুল ধারণা আছে।
“সাইকোলজিস্টের কাছে যায় কারা?”
“নিজের সমস্যা নিজে সামলাতে পারি না?”
“মানুষ কী বলবে?”
আমার মধ্যেও হয়তো এই স্টেরিওটাইপের কিছুটা ছিল। কিন্তু একটা সময় নিজেকেই বললাম শরীর খারাপ হলে ডাক্তার দেখানো যদি স্বাভাবিক হয়, তাহলে মনের সমস্যা হলে সাইকোলজিস্টের সাহায্য নেওয়া অস্বাভাবিক কেন?
এই একটা প্রশ্নই আমার চিন্তার এর একটা দরজা খুলে দিল। আমি একজন সাইকোলজিস্টের কাছে গেলাম। আর সেটাই হয়ে উঠল আমার যাত্রার এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।
সাইকোলজিস্টের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে সিবিটি বা কগনিটিভ বিহাভিওরাল থেরাপির কিছু সাধারণ ধারণা বুঝতে শুরু করলাম। সিবিটি-এর মূল ধারণাগুলোর একটি হলো আমাদের চিন্তা, অনুভূতি এবং আচারণ একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অর্থাৎ,
চিন্তা → আবেগ → আচারণ
একটা চিন্তা আমাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে, আর সেই অনুভূতি আমাদের আচারণকে প্রভাবিত করতে পারে।
আমার ক্ষেত্রে সেটা অনেক সময় এমন ছিল,
“আমার স্ট্রোক হচ্ছে।”
↓
ভয়
↓
নিজেকে পর্যবেক্ষণ করা
↓
আরও অনুভূতি খুঁজে পাওয়া
↓
আরও ভয়
↓
আবার খোঁজা
সাইকোলজিস্ট আমাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করেছেন, সেটা হলো, মাথায় কোনো চিন্তা আসা মানেই সেটা সত্য নয়। এই কথাটা শুনতে খুব সাধারণ। কিন্তু হেলথ এনজাইটির মধ্যে থাকা একজন মানুষের জন্য এটা বিশাল একটা উপলব্ধি। একটা চিন্তা হতে পারে। একটা সম্ভাবনা হতে পারে। একটা ভয় হতে পারে। কিন্তু সেটাকে নিজে নিজেই সত্য বানিয়ে ফেলতে হবে না।
ধীরে ধীরে নিজের চিন্তাগুলোকে প্রশ্ন করতে শিখলাম। “এর প্রমাণ কী?” “আমি কি সবচেয়ে খারাপ আউটকাম কে সত্য ধরে নিচ্ছি?” “এর অন্য কোনো যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা থাকতে পারে?” “আমি কি অনুভূতির চেয়ে তার ব্যাখ্যা নিয়ে বেশি ভয় পাচ্ছি?”
এখানে পজিটিভ থিংকিং- এর কথাটাও আসে। পজিটিভ থিংকিং মানে নিজেকে জোর করে বলা, “আমার কিছুই হবে না।”
কিন্তু আমার কাছে এখন পজিটিভ থিংকিং এর অর্থ এর থেকেও বেশি। নেগেটিভ থিংকিং কে অস্বীকার না করে, সেটাকে প্রমাণ এবং যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করা। ভয় থাকবে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তি। অনিশ্চয়তা থাকবে। কিন্তু অনিশ্চয়তা মানেই ভয়ানক কিছু নয়। এই শিক্ষাটা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এখন আমি ধীরে ধীরে নিজের জীবনটাকেও নতুনভাবে সাজানোর চেষ্টা করছি। আগের কিছু বাজে অভ্যাস ছেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। একটা রুটিন তৈরি করছি। ঘুমের দিকে খেয়াল রাখছি। খাবারের ব্যাপারে সচেতন হচ্ছি। পুষ্টিকর এবং সুষম খাবার খাওয়ার চেষ্টা করছি। আর দিনের শুরুটাও বদলেছি। সকালে উঠে কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখি। ইয়োগা করি। শরীরকে নড়াচড়া করাই। নিজের সঙ্গে একটু সময় কাটাই। আগে শরীরে কোনো অনুভূতি খুঁজতাম। এখন চেষ্টা করছি শরীরের যত্ন নিতে। এই পরিবর্তন হয়তো বাইরে থেকে খুব ছোট। কিন্তু আমার কাছে এটা একটা বড় পরিবর্তন। নিজের শরীরকে ভয় পাওয়ার বদলে, নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া।
তবে আমার গল্প এখানেই শেষ নয়। এটা আসলে শুরু। কারণ হেলথ এনজাইটি থেকে বের হয়ে আসা কোনো একদিনের ঘটনা নয়। এটা একটা জার্নি। যেখানে আমাকে এখনও শিখতে হচ্ছে, কীভাবে ভয়কে চিনতে হয়। কীভাবে নিজের চিন্তাকে প্রশ্ন করতে হয়। কীভাবে অনিশ্চয়তা সহ্য করতে হয়। কীভাবে রিএজুরেন্সন এর ওপর নির্ভরতা কমাতে হয়। কীভাবে নিজের শরীরকে বারবার পর্যবেক্ষণ না করে বাঁচতে হয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে নিজের মনের সঙ্গে যুদ্ধ না করে, নিজের মনকে বুঝতে হয়।
আমি জানি, আমার মতো আরও অনেক মানুষ আছেন। হয়তো কেউ এখন রাত জেগে নিজের হৃদস্পন্দন গুনছেন। কেউ গুগলে লক্ষণ খুঁজছেন। কেউ আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের হাসি পরীক্ষা করছেন। কেউ নিজের হাত-পা বারবার নড়াচড়া করে দেখছেন।
কেউ হয়তো ভাবছেন,
“আমি কি সত্যিই অসুস্থ, নাকি আমি শুধু ভয় পাচ্ছি?”
আর কেউ হয়তো সাইকোলজিস্ট-এর কাছে যাওয়ার কথা ভাবছেন, কিন্তু স্টেরিওটাইপের কারণে থেমে আছেন। যদি তুমি তাদের একজন হও, তাহলে জেনে রাখো, সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়। নিজের মানসিক স্বাস্থ্য কে গুরুত্ব দেওয়া লজ্জার কিছু নয়। আর নিজের ভয়কে বুঝতে শেখাও নিরাময়ের একটা অংশ। আমি এখনও পুরোপুরি সেই জায়গায় পৌঁছাইনি। কিন্তু এখন অন্তত জানি, ভয় আসতে পারে। কিন্তু ভয় যা বলছে, সেটাই শেষ সত্যি নয়। আর হয়তো নিরাময়ের শুরুটা সেখানেই।
আজ তাই আমার বোঝাটা একটু ভাগ করে রাখলাম। হয়তো আমার মনটা একটু হালকা হবে। আর হয়তো এই লেখা পড়ে কেউ একজন নিজের ভেতরে খুব আস্তে করে বলবে,
“আমি একা নই।”
তাহলেই এই গল্প বলা সার্থক।
চলো, বোঝাটা একটু ভাগ করে নিই। একসাথে লড়াই করা যাক।