সব সুর এক হয়
– আশেক মাহমুদ সোহান
সব সুর এক হয়
– আশেক মাহমুদ সোহান
জলছত্র থেকে পূবে গ্রামের পথটা যেদিকে গেছে
লালমাটির পথ পেরিয়ে শালবনের মাঝ দিয়ে
মান্দিদের ছোট ছোট ঘরগুলি আমি দেখেছি
সেখানে কি অসীম সুখে, দুখের দিনগুলি তারা পাড়ি দেয়।
কাকে খাওয়া আনারসের গোড়া নিয়ে শিশু
আবার বুনে নতুন ফলের আশায়।
গুণগুণ কণ্ঠে গান করে মান্দি কিশোরী
পাশের মুসলিম পাড়া থেকে ভেসে আসে আজানের ধ্বনি
কিশোরী চুপ করে শোনে, এইতো সন্ধ্যে হলো
সব সুর এক হয়ে মিশে যায় কিশোরীর গায়।
আদমপুরের সরু মেঠোপথ ধরে যে গ্রাম, কাঁটাতার ঘেষে
সেখানে পাঙন মণিপুরীদের তাঁতের খটখট আওয়াজের সুর
মুগ্ধ হয়ে শুনতে শুনতে ,তাদের ঘরে থাকা
বিষ্ণুপ্রিয়াদের রাসের প্রসাদ আস্বাদন করে আমি দেখেছি।
মিলাদ আর প্রসাদ মিলেমিশে একাকার।
সম্প্রীতির পাহাড়চুড়ায় তা স্রেফ খাবার।
খুব বেশী দূরে নয়, বাড়ির পাশের কুমোরপাড়ায়
সলিম আলী কিনতে যায় ভাতের ঢাকন
ভাতের ফেন উপচে পরে যেটা বেয়ে যায় মুসলিম খানায়।
কুমোরের হাতের ছোঁয়া সেখানে শিল্পমাত্র, অচ্ছুত নয়।
সাঁঝের বেলায় সনাতনীর শঙ্খের সুর
আর মুয়াজ্জিনের আহবান, শুধুমাত্র পরিচয়।